আমার রবীন্দ্রনাথ

ঠিক যখন শ্যামাঙ্গী মেয়েটি গেয়ে উঠল–‘ আমার প্রাণের পরে চলে গেল কে …’ আমি দেখলুম এক বিকেলের দৃশ্য। সেই বিকেল, যার কাছে অনেক স্মৃতি জমা রাখা আছে। সেই বিকেল,যার দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছে একটি বিকেল আসে অবেলার মতো পায়ে পায়ে।
রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন ভোর পছন্দ করেছেন। সূর্যের প্রথম আলো মাখতে চেয়েছেন জীবনভর। তিনি তাঁর প্রাণের শান্তি খুঁজেছেন সদ্য ফোটা ভোরের আলোয়। আসলে, তিনি নিজেই এক ভোরের পাখি। আমাদের অনড় ঘুম ভাঙানিয়া তিনিই। তাঁর লেখায় রোদ আর রুদ্র আছে, কিন্তু রুক্ষতা নেই। সবটাই বারিধারা।
তাহলে কেন এমন ভেসে ওঠে বিকেলের ছবি! কেন ভেসে ওঠে পাখিদের ঘরে ফেরার পাখসাট! ভেসে উঠতে বাধা নেই,কেননা এই ব্যাপ্তিটুকুই রবীন্দ্রনাথ। তিনিই  উচ্চারণে সাহস জুগিয়েছেন- ‘ রাতের বেলা  দুপুর যদি হয় দুপুর বেলা রাত হবে না কেন?’
ফলত আমি অনায়াসে তাঁর গানের সাথে পৌঁছে যেতে পারি বিকেলের কাছে। সেই বিকেল,যে-বিকেল  সারাদিনের ক্লান্তির অবসান ঘটিয়ে আবার নতুন করে জেগে ওঠার সুধা ভরে দেয় প্রাণে।দেয়  আরো আরো প্রাণ। আমরাও হয়তো বা  কোনও না-কোনও ভাবে ভোরের পাখি।
আমরা সবাই জেগে উঠতে চাই মরণ থেকে গানের সুরে আরেক গান কণ্ঠে তুলে নেব বলে। আমরা কণ্ঠ পেতে দিই, আর সেই কণ্ঠে জীয়নগান তুলে দেন আমার রবীন্দ্রনাথ! —সুকান্ত সিংহ 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

তৃপ্তি পাল কর্মকার

সম্পাদক, ‘স্থানীয় সংবাদ’ • মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য মেল করতে পারেন।


  • gplus

Comments

  1. ritwik tripathy
    May 9, 2017 at 4:10 pm

    darun.

Leave a comment