গল্প: সিঁধ

আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে ঝাড়গ্রামের কাছে একটি গ্রামে ঘটনা। সেদিন সে বাড়িতে ছিল বলতে মাত্র দু’জন মহিলা। একজন ছিল মলি তার বয়স ২২-২৩, আর তার মেজমামি। ওদের বাড়ির বাকীসব লোকজন গিয়েছিল মেদিনীপুরের এক অনুষ্ঠানে। ওখান থেকে রাতে কেউ আসবে না, এটা বাড়ির ভিতরের লোকেরাই জানত। ছমছমে বনজঙ্গল ভরা গ্রামের মাঝে বিশাল দোতলা পাকাবাড়ি। হঠাৎ সন্ধ‍্যাবেলা মলির মেজমামা হাজির, চাকরি সূত্রে সে টাটাতে থাকত। তার আসাতে ওরা কিছুটা স্বস্তি পেল। এরপর রাতে খাওয়াদাওয়া শেষ করে সবাই ঘুমোতে গেল। গভীর রাতে কিছু একটা আওয়াজ শুনে মামির ঘুম ভেঙ্গে গেল, তার ডাকে তাড়াতাড়ি সবাই জেগে উঠল। বুঝতে পারল কেউ সিঁধ কাটছে। মেজমামা আগে আর্মিতে কাজ করত, সাহসের অভাব ছিলনা। সে বুদ্ধি করে একটা বড় মোটা দড়ি খুঁজে আনল। তারপর তিনজনেই ওঁত পেতে বসে রইল দেওয়ালের গায়ে। সিঁধ কাটা শেষ হতেই বুঝতে পারল কেউ একটা পা গলিয়ে ঢোকার জন‍্য চেষ্টা করছে। মেজমামা সেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। তার হাতের ‘টিম্বার হিচ’ ফাঁস দেওয়া দড়ি সেই পায়ে লাগিয়ে এক টান মারতেই দড়ি চোরের পায়ে চেপে বসে গেল। কিন্তু মেজমামা বুঝতে পারল ওপ্রান্তে একাধিক লোক টানছে, চেঁচামেচি হচ্ছে জোর। সে বুদ্ধি খাটিয়ে দড়ির অন‍্য প্রান্ত ভারি পালঙ্কের সাথে বেঁধে ফেলল। তার ওপর সবাইকে উঠে পড়তে বলল। ওদিকে জোর টানা হেঁচড়া চলছে, বোঝা গেল প্রায় পাঁচ জন লোক বাইরে খুব চেষ্টা করছে। কিন্তু ততক্ষণে ফাঁস এমন বসে গেছে তারা আর  ছেলেটাকে টেনে বার করতে পারছে না। এর পর কয়েক সেকেন্ডের বিরতি পড়ল, সব চুপচাপ। ঠিক তখনই কান ফাটানো আর্তনাদ, যার পা সিঁধের মধ‍্যে ছিল সে যেন ছটফট করতে লাগল। পালঙ্কসহ গোটা বাড়ি যেন কাঁপতে লাগল। কিছুক্ষণ পর সব স্তব্ধ। কোনও আওয়াজ নেই। মেজমামা বলল – সব শেষ। ঘন্টা খানেক এইভাবে কেটে যাওয়ার পর যখন ভোর হল সবাইকে ডাকাডাকি করে বাইরে গিয়ে দেখল ছেলেটার মাথাটা কেটে নিয়ে গেছে, শুধু রক্তাত ধড় পড়ে আছে। অনেক খুঁজেও পুলিশ তার মাথার খোঁজ পায়নি। তবে বেশ কিছুদিন পরে জানা গিয়েছিল পাশের গ্রামের একটি ছেলে ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ।

…ঘটনায় একমাত্র জীবিত সাক্ষীর বয়ান অনুযায়ী লিখলাম। অনিন্দ‍্য গোস্বামী।  

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

তৃপ্তি পাল কর্মকার

সম্পাদক, ‘স্থানীয় সংবাদ’ • মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য মেল করতে পারেন।


  • gplus

Leave a comment