ঘাটালের নতুন এস.ডি.পি.ও: বিশেষ মানসিকতার এক পুলিশ অফিসার

স্বাধীনতার ৭০ বছর পর ঘাটালে নতুন এসডিপিও (সাব ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার) পোস্টিং হচ্ছে। প্রথম এসডিপিও হিসেবে দায়িত্বভার নিচ্ছেন ডব্ল্যুবিপিএস বিবেককুমার বর্মা। রাজ্যের প্রায় প্রত্যেকটি মহকুমাতেই এই এসডিপিও পদ মর্যাদার একজন করে পুলিশ অফিসার আছেন। ঘাটাল মহকুমা ছিল তার ব্যতিক্রম। এবার থেকে ঘাটালেও ওই পদ মর্যাদার পুলিশ অফিসারের জন্য নিজস্ব সেট-আপ তৈরি হতে চলেছে। ঘাটালের প্রথম এসডিপিও   বিবেক বর্মার সম্বন্ধে এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক:স্বাধীনতার ৭০ বছর পর ঘাটালে নতুন এসডিপিও (সাব ডিভিশন পুলিশ অফিসার) পোস্টিং হচ্ছে। প্রথম এসডিপিও হিসেবে দায়িত্বভার নিচ্ছেন ডব্ল্যুবিপিএস বিবেককুমার বর্মা। রাজ্যের প্রায় প্রত্যেকটি মহকুমাতেই এই এসডিপিও পদ মর্যাদার একজন করে পুলিশ অফিসার আছেন। ঘাটাল মহকুমা ছিল তার ব্যতিক্রম। এবার থেকে ঘাটালেও ওই পদ মর্যাদার পুলিশ অফিসারের জন্য নিজস্ব সেট-আপ তৈরি হতে চলেছে। ঘাটালের প্রথম এসডিপিও   বিবেক বর্মার সম্বন্ধে এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক: ঘাটাল মহকুমার প্রথম এস.ডি.পি.ও-র অতীতটা অনেকটাই পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তার মতো। বিবেকবাবুর জীবনে স্বপ্ন ছিল শিক্ষকতার। কিন্তু পারিবারিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাঁর সে স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে দেয়নি। আজ তিনি এস.ডি.পি.ও-র মতো একটি বিশেষ পদের দায়িত্ব সামলালেও কিন্তু তাঁর জীবনের কেরিয়ারটা অন্যদের তুলনায় ভিন্ন। তাঁর পূর্বপুরুষদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে। বিবেকবাবুর বাবা রমেশচন্দ্র বর্মা বর্ধমানের কুলটির ইসকো কারখানায় সুইপার-কাম-ক্লিনারের চাকরি করতেন (পরে অবশ্য রমেশবাবুর মেকানিস্কে পদোন্নতি হয়)। সেই সূত্রে বিকেকবাবুর বাবা এই রাজ্যে আসেন।

ঘাটাল মহকুমা বিবেক বর্মার মতো বিশেষ ধরনের পুলিশ অফিসার পেতে চলেছে জানতে পেরে ঘাটাল মহকুমাবাসী খুবই আপ্লুত। মহকুমাবাসীদের বিশ্বাস, ওই এসডিপিও ঘাটাল মহকুমার অ্যাসিড হানা, মাইকের উৎকট সাউণ্ড, বাইক চুরি, রাস্তা ঘিরে চাঁদার  মতো গুরুত্ব পূর্ণ সমস্যাগুলি নিয়ে  বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বিবেকবাবুর জন্মও এই রাজ্যে হলেও পড়াশোনা করতেন কুলটি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে।  উচ্চমাধ্যমিকের পরই   তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইগনু) ভর্তি হন। ইগনুতে পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি কয়েকটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতাও করেন। ২০০৬ সালে ইগনু থেকে স্নাতক পাশ করার পর ২০০৭ সালে স্টেট ব্যাঙ্কের চাকরি পান। পোস্টিং হন তামিলনাড়ুর কোয়াম্বাটুরে। ওই সময়েই তাঁর মা কান্তিদেবী অসুস্থ হয়ে পড়লে চাকরি ছেড়ে আবার কুলটিতে ফিরে আসেন। প্রতিকূলতা তাঁর উচ্চাশাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বিবেকবাবু ২০০৮ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (ডব্ল্যুবিসিএস) পরীক্ষা দেন। সেই পরীক্ষায় পাশ করে ২০১০ সালে পুরুলিয়া জেলার  ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট (প্রবেশন) হিসাবে চাকরিতে যোগদান করেন।  ডেপুটি ম্যাজেস্ট্রেট হিসাবে চাকরি করার সময়ই তাঁকে পুলিশের নিয়ম-শৃঙ্খলা আকৃষ্ট করে। ফলে তিনি ফের ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষা দেন। পরীক্ষায় পাশ করে প্রশিক্ষণ নিয়ে   ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রথমে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশে প্রবেশনে যোগ দান করেন। তারপরই তিনি ২০১২ সালের  ৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশেই ডিএসপি (ডিএনটি) পদে যোগ দেন।  ২০১৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ঝাড়গ্রামের এসডিপিও হন। মাঝে বিষ্ণুপুরের দায়িত্ব  নেন। সেখান থেকে  ফের ২০১৬ সালের ১৭ জুন ঝাড়গ্রামের এসডিপিও পদে যোগ দান করেন বিবেকবাবু। সেখান থেকে ঘাটালের দায়িত্বে আসছেন। এই স্বাধীন ভারতে বিবেকবাবুর নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই। ব্যাচেলার বিবেকবাবু যেখানে থাকেন তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবাও সেখানে থাকেন। পুলিশের চাকরিতেই তিনি যে উপযুক্ত সেটা তাঁর অতীতের কর্মদক্ষতাই তা প্রমাণ করে। ঝাড়গ্রামে এসডিপিও পদে চাকরিরত অবস্থায় তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। শুধু সমাজে নয় দপ্তরেও বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সাফল্য কুড়িয়েছেন। যেমন, অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে মাওবাদী নেতা অভিকে গ্রেপ্তার করে এনেছিলেন। আবার, ঝাড়গ্রামের তরুণ ব্যবসায়ী সৌরভ আগরওয়াল ওরফে রকিকে খুনের ঘটনায় তিনি তৎপর হয়ে ওড়িশার গঞ্জাম এলাকায় পাহাড়ের খাদ থেকে রকির মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন এবং রকি খুনে মূল অভিযুক্ত অশোক শর্মাকে গ্রেপ্তার করেছিলেন তিনি। রোড চন্দ্রকোণার  সোনা দোকানের মালিককে খুন করে সোনা লুঠের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীদের তিনি নিজে ব্যবসায়ী সেজে  ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করেছিলেন।   তিনি হকার সেজে অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরি জেলার তানুকা এলাকা থেকে ফিল্মি কায়দায় একদা খড়গপুরের ত্রাস বাসব রামবাবুকে গ্রেপ্তার করেন। যে রামবাবুর ভয়ে নব্বইয়ের দশকে খড়গপুরে বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খেত। ঘাটাল মহকুমা বিবেক বর্মার মতো বিশেষ ধরনের পুলিশ অফিসার পেতে চলেছে জানতে পেরে ঘাটাল মহকুমাবাসী খুবই আপ্লুত। মহকুমাবাসীদের বিশ্বাস, ওই এসডিপিও ঘাটাল মহকুমার অ্যাসিড হানা, মাইকের উৎকট সাউণ্ড, বাইক চুরি, রাস্তা ঘিরে চাঁদার  মতো গুরুত্ব পূর্ণ সমস্যাগুলি নিয়ে  বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।   আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাতেই নতুন এস ডি পি ও-র যোগদান করার কথা।

•এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন রঞ্জন পাল।  রঞ্জনবাবু ‘বর্তমান’ সংবাদপত্রের ঝাড়গ্রাম জেলার প্রতিনিধি।

 

 

 

­

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

তৃপ্তি পাল কর্মকার

সম্পাদক, ‘স্থানীয় সংবাদ’ • মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য মেল করতে পারেন।
  • gplus

Leave a comment