ঘাটালে জলবন্দি তিনটি পরিবার,নামানো হল বায়ুসেনা

বুধবার রাত ৮:৪৫ নাগাদ ঘাটালের প্রতাপপুরের কাছে শিলাবতী নদীর বাঁধ প্রায় ১৫ মিটার ভেঙেযায়। জলে প্লাবিত হতেথাকে ঘাটালে,দাসপুর-১ ও দাসপুর-২ ব্লকের কিছু এলাকা। আজ সকালেও নতুন করে দাসপুর-২ ব্লকের কিছু অংশ নতুন করে প্লাবিত হয়। কিন্তু মূল যে হানা তার সামনে যে চৌধুরী পাড়া। সেই পাড়ার প্রায় তিনটি পরিবারের প্রায় ৪০/৪৫ জন কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়েন। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন গ্রামের অন্যদের থেকে। ঘাটাল মহকুমা শাসকের কার্যালয় থেকে স্পিডবোট পাঠিয়েও স্রোতের কারণে উদ্ধারকারী দল সেই বাড়ি অদবি পৌঁছতেই পারেনে।পুলিশ সূত্রে দাবি, হরিসিংহ পুর ও প্রতাপপুরে পৌঁছতেই পারেনি ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারের জন্য কলকাতা পুলিশের সাহায্য চায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। দুপুরেই বিষয়টিতে নবান্ন হস্তক্ষেপ করে। পাঠানো হয় বায়ুসেনা ও সেনার আধুনিক কপ্টার MI75V5। কিন্তু উদ্ধারকারী সেনা প্রথমে সেই বাড়ি লোকেট করতে পারেনি। বড় বড় গাছের জন্য পরে সেই বাড়ির ছাদের সোজা যেতেও বেশ বেগ পেতে হয়। প্রায় ১৫/২০ মিনিটের প্রচেষ্টার পর কপ্টার থেকে দড়ি নামিয়ে উইঞ্চিং পদ্ধতিতে জলবন্দিদের তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আটকেপড়া মানুষদের মধ্যে অনেকেই মহিলা ও শিশু,তার ওপর প্রায় দুদিন জলবন্দি থেকে তারা মনোবল অনেকটাই হারিয়েফেলেছেন। ফলে তারা এই প্রচেষ্টায় সাড়া দেন নি। তাই তড়ি ঘড়ি সন্ধ্যে ৬:৪৫ নাগাদ ওই বাড়ির ছাদে নামানো হয় এক পুলিশকর্মী ও এক NDRF(ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স) জওয়ান। তারা মূলত আটকেপড়া মানুষদের মনোবল বৃদ্ধি করবেন। জলের তোড়ে বাড়িটির নিচেরতলা যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু সন্ধে ৭টার পর কপ্টারের নাইটভিসন আর তেমন কাজ করেনা। ইতি মধ্যে এলাকায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজ পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়। সূত্রের খবর রাতে ওই পুলিশকর্মী ও NDRF জওয়ান আটকেপড়া মানুষদের সাথে থাকবেন। তাঁরা সাথেকরে কিছু জল ও শুকনো খাবার নিয়েগেছেন। রাতটুকু সেই দেয়েই কাটাতে হবে আক্রান্তদের। ফের শনিবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে উদ্ধারকাজ আবার শুরু করা হবে।

এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার ঘাটাল লাগোয়া নিমতলা ও দাসপুর এলাকা পরিদর্শন করেন সেচমন্ত্রী। কথা বলেন দুর্গতদের সঙ্গে। এই পরিস্থিতির জন্য, ৭৮ সালের বন্যার তুলনা টেনে ডিভিসি-র ওপরই দায় চাপিয়েছেন সেচমন্ত্রী। বলেন, ৭৮ সালে যে বন্যা তৈরি হয়েছিল, এবার তার থেকেও বেশি জল ছেড়েছে ডিভিসি। কোনওভাবেই ত্রাণ সমস্যা হচ্ছে না।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Soumen Misra

তথ্যভিত্তিক সত্য, কথায় ও লেখায় প্রকাশ পাক।
✆+919932953367
Em@il:- soumenmisra.in@gmail.com
  • gplus

Leave a comment