অসামান্য ব্যক্তিত্ব ও অপরাজেয় পৌরুষের অধিকারী ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রায় দু’শো বছর আগে যে ক্ষণজন্মা মানুষটি তদানীন্তন সমাজকে হতচকিত করে দিয়েছিলেন, তিনি প্রাতঃ স্মরণীয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ঘাটাল মহকুমার গর্ব তিনি।

বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রয়াত হন ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই, বাংলা ১২৯৮ সনের ১৩ শ্রাবণ, রাত্রি দুটো আঠারো মিনিটে তাঁর কলকাতার বাদুড়বাগানস্থ বাসভবনে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর ১০ মাস ৪ দিন। মৃত্যুর কারণ, ডাক্তারের মতে, লিভারের ক্যানসার।

মৃত্যুর দিনটি মহকুমা তার নিজের মত করেই পালন করে। এবছরও ঘাতালের বিভিন্ন স্কুল কলেজ অফিদ আদালত সর্বত্রই পালিত হয়েছে বিদ্যাসাগরের মৃত্যু বার্ষিকী।

আজ চন্দ্রকোনা জয়ন্তীপুরে একটি বর্নাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বৈকুণ্ঠুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচিত হল।বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি নারায়ন সাঁতরা। সভায় উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রকোনার বিধায়ক ছায়া দোলই,চন্দ্রকোনা-২ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক শাশ্বত লাহিড়ি প্রমুখ। ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সুজন শাসঅমলের ব্যবস্থাপনায় আজকের এই মহতি আয়জনের সবাই উপস্থিত অভ্যাগতরা প্রশংসা করেন।

স্বাধীনতার পর, দেশে বিদ্যাসাগরকে যথোচিত শ্রদ্ধা জানানো হয়েছিল। তাঁর নামে তাঁর জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। চালু হয় বিদ্যাসাগর মেলা। কলকাতায় আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বিদ্যাসাগর সেতু তাঁর নামে উৎসর্গিত হয়। সাক্ষরতা প্রসারে তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাদর্শই গৃহীত হয়।  এতকিছুর পরেও আমরা বিদ্যাসাগরের মতাদর্শে কতটা অনুপ্রানিত হতে পেরেছি,এ প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। ক্যমেরায় অসীম বেরার সাথে সৌমেন মিশ্রের রিপোর্ট,স্থানীয় সংবাদ ঘাটাল।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Soumen Misra

তথ্যভিত্তিক সত্য, কথায় ও লেখায় প্রকাশ পাক।
✆+919932953367
Em@il:- soumenmisra.in@gmail.com
  • gplus

Leave a comment