ছেলে হারানোর শোকে মারা গিয়েছেন স্ত্রী, দুই বছর পরে ঘাটাল থেকে বাবার হাত ধরে ঘরে ফিরলো ছেলে

সুদীপ্ত শেঠ, দাসপুর: বাড়ির দালানে গাড়ি গাড়ি খেলতে খেলতে হটাৎ মায়ের নজর এড়িয়ে জনবহুল সড়কে চলে এসেছিল ছেলেটা৷ তার পরে আর ঘরে ফেরা হয়নি৷ ঠিক কী ঘটেছিল সেই দিন মনে নেই ছোট্টো সিন্টুর৷ বিহারের পাটনা জেলার খুশরুপুর থানার কায়েমপুরে বাড়ি দশ বছর বয়সী সিন্টু কুমারের৷ প্রায় তিন বছর আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছশো’ক্রোশ পথ পেরিয়ে কী ভাবে দাসপুরের চাইল্ড হোমে ঠাঁই হয়েছিল সিন্টুর তা এখন সে নিজেও মনে করতে পারছেনা৷ মাস চারেক আগে চন্দ্রকোনা থানা এলাকা বিভ্রান্ত ভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখে পুলিশ ও চাইল্ড লাইনের উদ্যোগে সিন্টুকে পাঠানো হয় গোপীগঞ্জের একটি বেসরকারী চাইল্ড হোমে৷ আজ ৩১ আগষ্ট সিন্টুকে ফিরিয়ে দেওয়া হল নিজের বাড়িতে৷ তবে কাজটা এতোটা সহজ ছিলনা বলছেন হোম কর্তৃপক্ষ৷ কারণ নিজের ঠিকানাও বলতে পারছিলো না সিন্টু৷ মাস খানেক আগে সিন্টু নিজের গ্রামের নাম মনে আসে৷ এর পরেই বিহার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে খুঁজে বার করা হয় বাড়ির ঠিকানা৷ সিন্টুর বাবা ধানেশ সিং পেশায় খেত মজুর৷ ছেলেকে হারনোর কিছুদিনের মধ্যেই স্ত্রীকে হারায় সে৷ ছেলের খোঁজ করে করে মানষিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ধানেশবাবু৷ ছেলের খোঁজ পাওয়ার পরে দেরি না করেই ট্রেনে খড়গপুর হয়ে সড়ক পথে দাসপুরের গোপীগঞ্জে আজ ছেলেকে তিনি নিতে আসেন৷ হোমের সম্পাদক শ্যামসুন্দর কোলে বলেন, আমরা খুশি ওকে ফিরিয়ে দিতে পেরে৷ আমাদের কাজই এটা৷ এখানে হোমে প্রায় ১০৪ জন রয়েছে৷ তার মধ্যে ৬৪ জনকে আমরা তাঁদের নিজেদের ঠিকানাতে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি৷

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment