দাসপুর ওসির উদ্যোগে ফ্রি কোচিং

দাসপুর থানার ওসি প্রদীপ রথের উদ্যোগে ফ্রি কোচিং সেন্টারগুলিতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। মাস আটেক আগে প্রদীপবাবু দাসপুর থানার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।  তারপরেই তিনি   দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনাতে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে দাসপুর থানার মধ্যে দুটি ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামে বেশ কয়েকটি ফ্রি কোচিং সেন্টার খোলেন। পুলিশের উদ্যোগে ওই ফ্রি কোচিংগুলিতে ব্যাপক সাড়াও পড়েছে। দাসপুর থানার ওসি   বলেন,   আমি ভাবতে পারিনি প্রত্যেকটি কোচিং সেন্টারে এতটা সাড়া পড়বে বলে। তিনি বলেন,  জেলা পুলিশের উৎসাহেই আমাদের এই ফ্রি কোচিং সেন্টারের উদ্যোগ।  আমরা খুব শীঘ্রই চাকুরি প্রার্থীদের জন্য থানা এলাকায় একটি ফ্রি গাইড সেন্টার খোলার ব্যবস্থা করছি। এর ফলে অনেক বেকার যুবক-যুবতীদের সুবিধে হবে বলে মনে করছি।

ওই দুটি ব্লক নিয়ে দাসপুর থানা। ওই দুটি ব্লকের মোট ২৪টি গ্রামপঞ্চায়েত রয়েছে।  দুটি ব্লকেই প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামপঞ্চায়েতে পুলিশের উদ্যোগে কোচিং সেন্টার করা হয়েছে। দাসপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি প্রদীপ পোড়ে এবং ওই ব্লকের গোছাতি  গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান মানবেন্দ্রনাথ দোলই বলেন, পুলিশের ব্যবস্থাপনাও ওই সমস্ত কোচিং সেন্টারে  কেনই বা ভিড় হবে না? কারণ,

পুলিশ মানেই ছাত্রছাত্রীদের মনের মধ্যে একটা ভয়ের ছবি আঁকা ছিল। সেই পুলিশই তাদেরকে পড়াবে এটা অনেক ছাত্রছাত্রীই প্রথমে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। তার ওপর পুলিশ তো চোর ধরে, তারা আবার কী পড়াবে? অনেকের আবার ভয় ছিল, পড়া না পারলে কিম্বা পড়া ভুল বললে যদি পুলিশ ধরে নিয়ে চলে যায়! এই ধরনের কিছুটা অবিশ্বাস আর কিছুটা কৌতূহল নিয়েই এলাকার ছাত্রছাত্রীরা ওই সমস্ত কোচিং সেন্টারে  পড়তে গিয়েছিল।  এখন তারা বলে, আমাদের খুবই ভাল লাগছে। এখন আর পুলিশকে ভয় করছে না। পুলিশ কী সুন্দর করে পড়া বুঝিয়ে দেয়!

এখন প্রতিটি সেন্টারেই সোম থেকে শুক্র এই পাঁচ দিন পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত ওখানে যায়। এলাকার ছাত্রছাত্রীদের দাবি মেনে কোথাও সকালে আবার কোথাও বা বিকেলের পর কোচিং দেওয়া হয়। ওসি নিজে   ইংরেজি পড়ান। এছাড়াও অন্যান্য এস আই, এ এস আই এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্য থেকে অনেকে ওই কোচিং সেন্টারে পড়ান।

ছাত্রছাত্রীরা প্রতীক্ষায় থাকে কবে ওসি পড়াতে আসবেন, সেই আশায়। কারণ ওসি যেদিন কোচিং সেন্টারে পড়াতে যান সেদিন সুন্দর পড়ানো ছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের ভাগ্যে থাকে অন্য পাওনা। কখনও লজেন্স, কখনও আবার বিস্কুট।
দাসপুর-২ ব্লকের খানজাপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান অনিতা পাত্র বলেন, প্রদীপবাবু ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সুন্দর করে মিশে গিয়ে পড়ান যেটা না দেখলে বিশ্বাসই হবে না। আমরা প্রতিবারেই এরকমই একজন ওসিকে চাই।

ওসি প্রদীপ রথ কোচিং সেন্টারে ছাত্রছাত্রীদের লজেন্স বিতরণ করছেন। ১ মে ২০১৭ দাসপুর থানার সিংহচক কোচিংসেন্টারে।

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

তৃপ্তি পাল কর্মকার

সম্পাদক, ‘স্থানীয় সংবাদ’ • মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য মেল করতে পারেন।


  • gplus

Comments

  1. Jayendra Dey
    May 3, 2017 at 12:30 pm

    ভাল কাজ…

  2. Partha De
    May 10, 2017 at 12:46 pm

    Congratulations to the OIC of Daspur Police Station Mr Pradip Rath.

    You and the initiatives taken by you in the recent past will surely motivate many good people to make our society more greener.

Leave a comment