সিঙ্গুর:ইতিহাসের পাঠ্য

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলিতে অষ্টমশ্রেণির ইতিহাস বইয়ের সংশোধিত সংস্করণে যুক্ত হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সিঙ্গুর আন্দোলন’। ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ শিরোনামের ওই আন্দোলন পর্বে সাতপৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের ছবি। অষ্টমশ্রেণির পাঠ্য বইতে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল তথা তৃণমূলের সিঙ্গুর আন্দোলনের ঘটনাবলী স্থান পাওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বিতর্ক ওঠাটাই স্বাভাবিক। যেভাবে রাজ্যের একটি শাসকদল তাদের কর্মকাণ্ড ফলাও করে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইতে সংযোজন করল তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। একটি রাজনৈতিক আন্দোলনকে ‘কৃষক আন্দোলন’ নাম দিয়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়তে বাধ্য করাটা অতি বড় শিক্ষাবিদও বোধ হয় মেনে নিতে পারেন না। সূত্র বলছে, শুধু মাত্র তৃণমূলের ওই ‘সিঙ্গুর আন্দোলন’ কে পাঠ্যবইতে সংযোজন করার জন্য ছাত্রছাত্রীদের চার মাস ইতিহাস বই দিতে দেরি করল পর্ষদ। সবথেকে বড় প্রহসন হল, ওই বইতে তেলেঙ্গানা আন্দোলনের জন্য শুধু দুটি পৃষ্ঠা এবং নর্মদা বাঁচাও এবং সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলনের জন্য মাত্র পাঁচটি লাইন স্থান দেওয়া হল অথচ সিঙ্গুর আন্দোলনের জন্য সাতপৃষ্ঠা! শিক্ষাবিদদের মতে এটা ইতিহাস নয়, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স হওয়া উচিত ছিল। কিম্বা বাধ্যতামূলক না করে সাপ্লিমেন্ট পুস্তিকা হিসেবে করা যেতে পারত। রাজনৈতিক দলগুলির মতে, প্রত্যেক রাজ্যের সরকারেরই শাসক দল ও তার বিরোধী দল রয়েছে। শাসকদলকে ক্ষমতা পেতে যথেষ্টই কাঠখড় পোড়াতে হয়। শাসক দল ক্ষমতার গদিতে বসে যদি ছোট ছোট ছাত্রদের তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পড়তে বাধ্য করে, এটাকে তুঘলকি সিদ্ধান্ত ছাড়া আর অন্য কিছু আখ্যা দেওয়া যেতে পারে না।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

তৃপ্তি পাল কর্মকার

সম্পাদক, ‘স্থানীয় সংবাদ’ • মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য মেল করতে পারেন।
  • gplus

Leave a comment