সুলতানগরে ফটোগ্যালারির উদ্বোধন

আজ ১৪ জুলাই সুলতাননগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উদ্বোধন হল ‘ফটো গ্যালারি’। ফটো গ্যালারিতে রয়েছে বিদ্যালয়ের বিগত বছরগুলি জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির ফটোর কোলাজ। যেমন, বাৎসরিক অনুষ্ঠান, পিকনিক, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, মিড ডে মিল, স্বচ্ছ ভারত অভিযান-সহ বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি।
এদিন ওই গ্যালারির উদ্বোধন করলেন ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান তথা সৃজন পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক লক্ষ্মণ কর্মকার।গ্যালারির উদ্বোধনের পর তিনি শিশুদের সঙ্গে ঘন্টাখানেক কাটিয়েও গেলেন। সাহিত্যের ওই অধ্যাপক কচিকাঁচাদের জানিয়ে গেলেন, ওই বিদ্যালয় অনেক দিক থেকেই এগিয়ে। বললেন, শিশুদের পড়াশুনোর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সুঅভ্যাস ও শৃঙ্খলাবোধ এবং নিত্য নতুন কর্মসূচি সকলের চোখে পড়বার মতো। ওই গ্যালারিতে সমস্ত শ্রেণির সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপকের ছবি রাখার পরামর্শ দেন। এর ফলে পড়াশুনাতে ওরা আনন্দের সাথে আগ্রহী হবে। প্রধান শিক্ষক বঙ্কিম মাজি বলেন, আমাদের স্কুলে সারা বছরই নানা ধরনের অনুষ্ঠান হয়।তাই আমরা বিভিন্ন সময় নতুন-নতুন ছবি এই গ্যালারিতে রাখার ব্যবস্থা করব।ছাত্রছাত্রীরা উৎসাহিত হবে।হবে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিমুখী।

অন্যান্য স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেসিক বা ডি.ইএল.এড  ডিগ্রি থাকলেও সেটা তাঁদের বাড়ির আলমারির ফাইল না-ঘাঁটলে বোঝা যায় না। আর ওই স্কুলের চত্বরে পা দিলেই বোঝা যায় কচিকাঁচাদের সঠিক ভাবে বিকশিত করার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমস্ত গুণ ও যোগ্যতাই বর্তমান, ডিগ্রি দেখার দরকার হবে না।
এদিনের ওই বিদ্যালয়ের ফটো গ্যালারি দেখে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অভিভাবক-অভিভাবিকারাও খুশি।ওই স্কুলটি পাঁচবেড়িয়া গ্রামপঞ্চায়েতের অধীন। ওই গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান নিভারানি সেনাপতি বলেন, সুলতাননগর প্রাথমিক বিদ্যালয় আমাদের গর্ব। শুধু পড়াশোনা নয়, ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলা, ব্রতচারি, গান—সমস্ত বিষয়েই ওই বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা বিশেষ ভাবে নজর দেন। প্রধানের স্বামী কমল সেনাপতির সংযোজন, রাজ্যের প্রত্যেকটি স্কুলই যদি সুলতাননগরের মতো হত তাহলে বেসরকারি নার্সারি স্কুলগুলির এত রমরমা ভাব হত না। তিনি বলেন, বঙ্কিম মাজি, অপর্ণা বারিক, সোমা কুলভী, মুক্তি মান্না, দিলীপকুমার দোলই এবং কেশব মেট্যা’র মতো গুণী শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়া স্কুলের এই অগ্রগতি কোনওভাবেই সম্ভব হত না।
সুলতাননগর স্কুলের পরিবেশ, ছাত্রছাত্রীদের রুচিবোধ দেখলেই বোঝা যায় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা কী গভীরভাবে স্কুলের সবকিছুর প্রতি দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা আসে ভেতর থেকে। অন্তরাত্মা না-জাগলে শুভ বুদ্ধির উদয় হয় না। তাই কোনও কোনও শিক্ষক-শিক্ষিকা স্কুলকে বেতন তোলার হাজিরা খানা হিসেবে দেখলেও ওই প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকার কিন্তু সত্যিই তার ব্যতিক্রম। • ছবি: কেশব মেট্যা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

তৃপ্তি পাল কর্মকার

সম্পাদক, ‘স্থানীয় সংবাদ’ • মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য মেল করতে পারেন।
  • gplus

Leave a comment