১৬৯ বছরের প্রাচীন ব্রহ্মাপুজো

বিশেষ নিয়মে সম্পন্ন হল দাসপুর-২ ব্লকের দুবরাজপুরে শুরু হচ্ছে ব্রহ্মা পুজো।  ১৬৯ বছরের  পুরানো এই পুজোটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উন্মাদনা দেখা দিয়েছে।

ওই পুজোর সূচনা সম্বন্ধে লোকমুখে প্রচলিত একটি কাহিনী রয়েছে। এক সময় ওই গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের জীবিকা ছিল পিতলের বাসনপত্র তৈরি করা। ওই গ্রামের বাসিন্দা তথা পুজো কমিটির সম্পাদক সুধাকর কর্মকার বলেন, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মুখ থেকে শুনেছি প্রায় ১৭০ বছর আগে বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে হঠাৎ করে ওই গ্রামের মধ্যে ‘আকাশ থেকে’ একটি ‘অগ্নিপিণ্ড’ মাটিতে পড়ে।  ওই অগ্নিপিণ্ডটি তার কিছুক্ষণ পরেই পর্যায়ক্রমে একের পর একটি বাড়ির চালে ‘লাফিয়ে লাফিয়ে’ যেতে শুরু করে। ওই গ্রামের বাসিন্দা পঞ্চানন কর্মকার ও গোবিন্দ রানা বলেন, ওই সময় অধিকাংশ পরিবারের খড় কিম্বা তালপাতার ছাউনি ছিল। তাই অগ্নিপিণ্ডটি বাড়ির চালের ওপর দিয়ে যাওয়ার ফলে ওই দিন ওই গ্রামের ২০-২৫টির বেশি বাড়ি পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তারপর থেকেই ওই গ্রামের বাসিন্দারা প্রতি বছর বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে অগ্নি দেবতা ব্রহ্মার পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই থেকেই নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ওই গ্রামে ব্রহ্মা পুজো হয়ে আসছে।

দুবরাজপুরের ব্রহ্মার মূর্তিও নির্দিষ্ট। উদ্যোক্তারা জানালেন,  চার মাথা যুক্ত ব্রহ্মার মাথায় ও দাড়িতে পাকা চুল থাকে। ব্রহ্মার পাশে সাবিত্রী  মূর্তিও থাকে।

পূর্ব পুরুষদের নির্দেশ মেনে ওই পুজোকে ঘিরে কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায় না। উদ্যোক্তারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বেশি আড়ম্বর চলে না। সেজন্য   অনাড়ম্বর ভাবেই ওই পুজোর আয়োজন করতে হয়। তবে ওই পুজোর দিনে পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গ্রাম থেকে  প্রচুর ভেটি আসে।  সুধাকরবাবু বলেন, ব্রহ্মাদেবকে মানত করে কেউ  নিরাশ হননি।  অনেকে ওই পুজোর দিন ব্রতীও থাকেন। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, পুজোটি তিন দিন ধরে চললেও পুজোর প্রথম দিন তথা বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনই মানতের পুজোগুলি সম্পন্ন হয়।

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

তৃপ্তি পাল কর্মকার

সম্পাদক, ‘স্থানীয় সংবাদ’ • মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য মেল করতে পারেন।


  • gplus

Leave a comment