নিজস্ব সংবাদদাতা, স্থানীয় সংবাদ: শনিবারই ঘাটাল শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কুশপাতা ঘড়ি মোড় সংলগ্ন এলাকার প্রগতি বাজারের অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেঙে দেওয়ার পরের দিন রবিবার সকালে প্রগতি বাজার এলাকার এই রকমই দৃশ্য ধরা পড়ল। আগের সেই ছবি নেই। শনিবার সমস্ত স্থায়ী, অস্থায়ী নির্মাণই ভেঙে দেওয়ায় সেই এলাকার বিক্রেতারা অন্য জায়গায় বিক্ষপ্ত ভাবে পসরা নিয়ে বসেছেন। তাঁদের মধ্যে আজ অনেকেই বাজারেই বাজারেই আসেননি বলে জানা গিয়েছে। শনিবার প্রগতি মার্কেটের দক্ষিণ দিকে ঘাটাল-মেচোগ্রাম রাস্তা থেকে রাইমণি রোড়ের সংযোগকারী রাস্তাটি ব্যাক্তিগত মালিকানার মধ্যে পড়ে যায় সেটিও ভেঙে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর জায়গার মালিকরা নিজেদের জায়গা ফিরে পাওয়ার পর তাঁরা সেই জায়গা দখল রাখতে শনিবার থেকেই তৎপর হয়েছেন।
রাজ্য সরকারের নির্দেশে নয়, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই প্রগতি মার্কেটের অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ করা হল। এই উচ্ছেদের কাজ বছর তিনেক আগে হওয়া কথা ছিল। শহরের বাসিন্দারা বলেন, তৃণমূলের আমলে যা তিন বছরেও হয়নি, বিজেপি সরকারের এক মাসে তা বাস্তবায়িত হল। শনিবার ঘাটাল শহরের প্রগতি বাজারে বুলডোজার চলল। মূল বিষয়টি ছিল, কয়েক দশক আগে ঘাটাল-পাঁশকুড়া রাস্তা তৈরির সময় শহরের কোন্নগরের বাসিন্দা ভূপেন দত্তের জায়গা অধিগ্রহণ নিয়ে একটি মামলা হয়। পূর্ত দপ্তরের দাবি ছিল, ভূপেনবাবুর জায়গাটি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তাই পুরো জায়গাটি পূর্ত দপ্তরের অধীন। এই বিতর্ক নিষ্পত্তির জন্য জায়গার মালিক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত নথি পরীক্ষা করে রায় দেয়, জায়গাটি অধিগ্রহণ করা হয়নি। জায়গার মালিক দত্তরাই। মামলা চলাকালীন ওই বিতর্কিত জায়গায় প্রগতি মার্কেট জাঁকিয়ে বসেছিল। ২০২৩ সালে আদালত প্রশাসনকে জায়গাটি দখলমুক্ত করে মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তখন সরকার ছিল তৃণমূলের। তারা কোনও নিয়মের ধার ধারে না। তাই হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও তা কার্যকর করার প্রয়োজন মনে করেনি প্রশাসন। ভূপেনবাবুর উত্তরসূরিরা বলেন, প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও এতদিন কোনও হেলদোল দেখা যায়নি। শনিবার প্রশাসনের উদ্যোগে জায়গাটি দখলমুক্ত করে আদালতের নির্দেশমতো মালিকরা তাঁদের সীমানা নির্দিষ্ট করে নেন বলে জানা গিয়েছে। বুলডোজার চালানোর আগে শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কুশপাতায় ‘প্রগতি মার্কেট’-এর অবৈধ দখলকারীদের সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকদের চরম বচসাও হয়। তাঁরা বিক্ষোভ দেখালেও বিশাল পুলিশ বাহিনীর চাপে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন।
বাজারে বুলডোজার চলার পরের দিন প্রগতি বাজার অনেকটাই ‘প্রাণহীন’



