এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

পশ্চিমবঙ্গ দিবস: শ্যামাপ্রসাদ না থাকলে আজ আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হতাম

Published on: June 20, 2026 । 9:11 AM
কাজলকান্তি কর্মকার
কাজলকান্তি কর্মকার
প্রতিবেদক রাজ্যস্তরের প্রথম শ্রেণির বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রের সাংবাদিক
📞 +919933066200 WhatsApp

Kajalkanti Karmakar[Ghatal#9933066200]: অখণ্ড বাংলার বুক চিরে নতুন এক ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৭ সালের ২০ জুন। ওই দিনেই বঙ্গীয় আইনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা প্রদেশকে ভাগ করার পক্ষে ভোটাভুটি হয়। এর আগে তৃণমূলের সরকার পয়লা বৈশাখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করলেও ২০২৬ সালের নতুন বিজেপি সরকার ওই ঐতিহাসিক দিনটিকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে।
মূলত দেশভাগের প্রেক্ষাপটে অবিভক্ত বাংলাকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ওই দিনের(২০ জুন ১৯৪৭) ভোটাভুটি। ১৯৪৭ সালের আজকের দিনে ভোটাভুটি করে বাংলা প্রদেশের পশ্চিম অংশকে ভারতের মধ্যে জুড়ে দেওয়ার তীব্র দাবি না উঠলে আজ এই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বাসিন্দাদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে হত। আর বাংলাদেশের নাগরিক হলে এই পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের যে কী করুণ পরিণতি হত সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ব্রিটিশদের ভারত ছাড়ার আগে মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশভাগ যখন নিশ্চিত, তখন অখণ্ড বাংলা পুরোটাই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই চরম উৎকণ্ঠার সময়ে বাংলার হিন্দু অধ্যুষিত বাংলা প্রদেশের পশ্চিমাংশকে ভারতের মধ্যে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রবল জনমত গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনের প্রধান কাণ্ডারী ছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তিনি এবং অন্যান্য জাতীয়তাবাদী বাঙালি নেতারা উপলব্ধি করেছিলেন, কলকাতা ও নোয়াখালির ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর বাংলার হিন্দুদের সম্মান ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রদেশের বিভাজন অত্যন্ত জরুরি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অদম্য লড়াই ও দূরদর্শিতার ফলেই সমগ্র বাংলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। বঙ্গভঙ্গের এই পদক্ষেপে তাঁর ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বেশি নির্ণায়ক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় দুটি পৃথক অধিবেশনে এই ভোটাভুটি সম্পন্ন হয়েছিল। মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ব অংশের প্রতিনিধিরা অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানে যুক্ত করার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, হিন্দু অধ্যুষিত জেলাগুলির প্রতিনিধিরা আলাদাভাবে মিলিত হয়ে বাংলার পশ্চিমাংশ নিয়ে একটি পৃথক প্রদেশ গঠনের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় দেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের দেশভাগের সময় ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণের জন্য Sir Cyril Radcliffe-এর নেতৃত্বে ‘Radcliffe Commission’ গঠন করা হয়। কমিশনের নির্ধারিত সীমারেখা ‘Radcliffe Line’ নামে পরিচিত। এই সীমারেখার ভিত্তিতেই ১৫ আগস্ট ১৯৪৭  অবিভক্ত বাংলা ভাগ হয়ে বাংলা প্রদেশের পশ্চিমাংশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশে পরিণত হয়। পাকিস্থানের সঙ্গে জুড়ে যাওয়া বাংলা প্রদেশের পূর্ব অংশের নাম হয় ‘পূর্ব বাংলা’ বা ’পূর্ব পাকিস্তান’। আর পশ্চিমের অংশটি ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের অঙ্গরাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ নামে পরিচিত হয়।  ফলে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।  অপরদিকে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ হয়, যা পরে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত হয় এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশে পরিণত হয়।
এক রক্তাক্ত ইতিহাস, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের শেষে এভাবেই ভারতের মানচিত্রে জন্ম হয়েছিল আজকের পশ্চিমবঙ্গের।
অনেকেই মনে করেন, ওই সময় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলা প্রদেশের পশ্চিম অংশকে ভাগ করার দাবি তুলে ভারতের সঙ্গে যুক্ত না-করার আন্দোলন শুরু না করলে আজ এই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের বাংলাদেশের সঙ্গে থাকতে হত। ফলে হিন্দুদের অবস্থা কী হত সেটা এই প্রতিবেদনে নতুন করে লেখার প্রয়োজন হবে বলে মনে করি না।
পশ্চিমবঙ্গ ইংরেজিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল থাকায় আমাদের রাজ্যের নামটি  যে কোনও তালিকায় একে বারে নীচের দিকে থাকে। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে ‘বঙ্গ’ করার চেষ্টা চালিয়ে ছিল। কিন্তু   ভারতের সংবিধানে তিন নম্বর অনুচ্ছেদ মেনে কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বিধানসভায় নাম বদলের প্রস্তাব পাশ করে তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রেল বা ডাক বিভাগের মতো বিভিন্ন দপ্তরের ছাড়পত্র সংগ্রহ করার পর একটি বিল তৈরি করে। নিয়ম অনুযায়ী, বিলটি সংসদে পেশ করার আগে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ নেওয়া বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রপতি রাজ্যের মতামত জানার জন্য বিলটি একবার রাজ্য বিধানসভায় পাঠান, তবে সেই মতামত মানতে সংসদ বাধ্য থাকে না। এরপর লোকসভা ও রাজ্যসভায় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিলটি পাশ করিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। তাঁর স্বাক্ষরের পরেই রাজ্যের নতুন নাম আইনি স্বীকৃতি লাভ করে। তৃণমূল সরকারের রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাব বিজেপি সরকার অনুমোদন করেনি। তবে এবার ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যের নাম বদল করার উদ্যোগ নেবে বলে জানা গিয়েছে।

 

 

নিউজ ডেস্ক

‘স্থানীয় সংবাদ’ •ঘাটাল •পশ্চিম মেদিনীপুর-৭২১২১২ •ইমেল: [email protected] •হোয়াটসঅ্যাপ: 9933998177/9732738015/9932953367/ 9434243732 আমাদের এই নিউজ পোর্টালটি ছাড়াও ‘স্থানীয় সংবাদ’ নামে একটি সংবাদপত্র, MyGhatal মোবাইল অ্যাপ এবং https://www.youtube.com/SthaniyaSambad ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে।