নিজস্ব সংবাদদাতা, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: আবারও ঘাটাল আদালতের এক আইনজীবীর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এল। ঘাটাল আদালতে এক শ্রেণির আইনজীবীদের জালিয়াতি ক্রমশ বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন বেশির ভাগ আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ। অনেকেই আইনজীবীদের উপর আস্থা হারাচ্ছেন। কারণ, অপরাধী জেনেও পেশার কারণে আইনজীবীরা তাদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন, অসত্য কথা বলেন এটাই আইনজীবীদের পেশার অঙ্গ। কিন্তু আইনজীবীরা আদালতের সঙ্গে জালিয়াতি করবেন, এটা কখনোই প্রত্যাশা করা যায় না। কিন্তু ঘাটাল মহকুমা আদালতে আইনজীবীদের জালিয়াতির একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষ স্তম্ভিত! আজ এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে কী ধরনের জালিয়াতির ঘটনা উঠে এসেছে সেটা শুনলে চমকে যাবেন।
অভিযোগ, দাসপুরের বাসিন্দা মনীষা মাজি সামন্তর সঙ্গে কলকাতার ঠাকুরপুকুরের বাসিন্দা ঋকময় সামন্তর বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা চলছে ঘাটাল আদালতে। ঋকময় বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে কর্মরত। মামলার পরবর্তী শুনানিতে যাতে একতরফা বা ‘এক্সপার্টি’ রায় জোগাড় করা যায়, তার জন্য মেয়েপক্ষের যোগসাজশে এক চরম জালিয়াতির আশ্রয় নেন ঘাটাল আদালতের এক আইনজীবী। তিনি ঋকময়ের একটি ভোটার কার্ডের জেরক্স জোগাড় করে, তাতে ঋকময়ের জাল সই করিয়ে নিজেই তাঁর হয়ে আদালতে হাজিরা দেখিয়ে দেন। এই ঘটনাটি ঘটেছিল গত এপ্রিল মাসে।
আইনজীবীদের সূত্রেই জানা গিয়েছে, দেওয়ানী বা সিভিল মামলায় বিবাদী পক্ষকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে হয় না। শুধু আইনজীবীর সই করা নথির মাধ্যমেই হাজিরা দেওয়া যায়। এই সুযোগটি নিয়েই আইনজীবী সম্পূর্ণ জালিয়াতি করে আদালতে ভুয়ো হাজিরা দেখান। কিন্তু বিষয়টি ঋকময় সামন্ত ইন্টারনেট মারফত জানতে পেরে হাইকোর্টের নামকরা এক আইনজীবীকে জানান। সেই আইনজীবী ঘাটাল আদালতের বরিষ্ঠ আইনজীবী দেবকুমার চট্টোপাধ্যায়কে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি আলিপুর থেকে এক আইনজীবীকে ঘাটাল আদালতে রেকর্ড অনুসন্ধানের জন্য পাঠান। ঘাটাল আদালতে এসে সমস্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখতেই ঘাটাল আদালতের ওই আইনজীবীর বিরাট জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এই ধরনের যে একটি ঘটনা ঘটেছে তা স্বীকার করেছেন ঘাটাল আদালতের বরিষ্ঠ আইনজীবী দেবকুমার চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আজ শুক্রবার এই ধরনের একটি ঘটনার কথা শুনলাম। দেবকুমারবাবু তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, কোথাও একটা বাঁধন আল্গা হয়ে যাওয়ার জন্যই ঘাটাল আদালতে এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটতে শুরু করেছে। এই ভাবে কেউ রেকলেস কাজকরবেন, কারোর জাল সই করে আদালতে পেশ করবেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এই জালিয়াতির খবর জানাজানি হতেই আদালত চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত আইনজীবী সংশ্লিষ্ট অন্য আইনজীবীদের কাছে নানা ভাবে অনুনয় বিনয় করতে শুরু করেছেন, যাতে তাকে বার অ্যাসোসিয়েশন কোনও শাস্তি না দেয় সেই জন্য। জানা গিয়েছে, নিজেকে বাঁচাতে বার অ্যাসোসিয়েশন এবং ল’ ক্লার্কস অ্যাসোসিয়েশনেও তিনি ইতিমধ্যে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। প্রসঙ্গত সম্প্রতি ঘাটাল আদালতের অন্য এক আইনজীবী বরুণ শাসমল প্রকৃত অভিযুক্তকে হাজির না করে অন্য একজন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত সাজিয়ে আদালতে হাজির করিয়ে পকসো মামলায় জামিনের ব্যবস্থা করেছিলেন।ওই জালিয়াতির বিষয়টি আদালত জানতে পারে। এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘাটাল আদালতে ঘটার পর ঘাটাল মহকুমা আদালতের আইনজীবীদের একাংশের সততা ও ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।







