এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

সালিসির সিদ্ধান্তে ঘরে ফেরার পথ বন্ধ, রাতভর অসহায় পরিবার

Published on: September 12, 2026 । 5:06 PM

সৌমেন মিশ্র, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল:ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে এমন দৃশ্য সত্যিই বিস্ময়কর, বরং লজ্জাজনক। শুক্রবার রাতের অন্ধকারে নিজের বসতবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে এক পরিবারকে। কারণ, তাঁদের বাড়িতে ঢোকার সমস্ত রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাটি দাসপুর থানার রামগড় গ্রামের। রামগড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তপন মাজীর বাড়িতে যাতায়াতের সব পথ স্থানীয় কয়েকজন মিলে বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়। অভিযোগ, পাড়ার একটি সালিসি সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই কাজ করা হয়েছে।

তপন মাজীর দাবি, প্রায় ৪০ বছর ধরে তাঁরা ওই জায়গায় বসবাস করছেন। শুক্রবার বিকেলে স্ত্রী ও নাতনিকে নিয়ে জমিতে চাষের কাজে গিয়েছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখেন, তাঁদের বাড়িতে ঢোকার সব রাস্তা বাঁশের বেড়ায় বন্ধ। মুহূর্তের মধ্যে গৃহবধূ, নাবালিকা নাতনি ও স্বামীকে নিয়ে কার্যত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাঁকে।

রাত প্রায় ১১টা নাগাদ বিষয়টি দাসপুর থানার ওসির নিজরে আসে। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। বেড়া দেওয়ার সঙ্গে যুক্তদের খোঁজ শুরু হলে অধিকাংশই গা ঢাকা দেয়। পরে এক মহিলা পুলিশের সামনে জানান, পাড়ার সালিসি সভার সিদ্ধান্ত মেনেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তপন মাজীর জমি নিয়ে সমস্যা রয়েছে বলেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলে কি তার সমাধান এভাবেই হবে? আদালত আছে, আইন আছে, প্রশাসন আছে। তা সত্ত্বেও একটি পরিবারকে রাতের অন্ধকারে ঘরবন্দি করে দেওয়া, কিংবা ঘরে ঢোকার পথ বন্ধ করে দেওয়া কোন সভ্য সমাজের পরিচয় বহন করে?

পুলিশ তপন মাজী ও তাঁর পরিবারকে নির্দেশ দেয় বেড়া ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করতে। পাশাপাশি, যারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সালিসি সভার নামে এই দুঃসাহসিক কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ।

একবিংশ শতাব্দীর বাংলায় এই ঘটনা শুধু একটি জমি-বিবাদের খবর নয়। এটি আইন ও প্রশাসনের বাইরে গিয়ে কিছু মানুষের স্বঘোষিত বিচারব্যবস্থা কায়েমের বিপজ্জনক প্রবণতার উদাহরণ। রাতের অন্ধকারে এক নাবালিকা, এক গৃহবধূ এবং একটি পরিবারকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখার এই মানসিকতা গণতান্ত্রিক সমাজে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানই এখন রামগড়ের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।