সৌমেন মিশ্র স্থানীয় সংবাদ ঘাটাল চারপাশে ঝোপঝাড়,নির্জনতাআলো-আঁধারির এক অদ্ভুত পরিবেশ।দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এ যেন কোনো ভৌতিক সিনেমার সেট!কিন্তু এ কোনো সিনেমার গল্প নয়।বাস্তবেই এমন এক অদ্ভুত ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে দাসপুরের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে।ফাঁকা বাড়ি,বন্ধ ঘর অথচ হঠাৎ করেই জ্বলে উঠছে আগুন!শনিবার সকাল থেকেই একের পর এক ঘরে আগুন লাগার ঘটনায় কার্যত ঘুম উড়েছে বাড়িতে থাকা পরিবার থেকে শুরু করে গোটা পাড়ার।ঘটনাস্থলে পুলিশ।ছুটে এসেছে দমকল।আর আগুনের উৎস খুঁজতে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে ফায়ার ব্রিগেডের আধিকারিকদের।ঘটনাস্থল দাসপুর থানার বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের একটি যৌথ বসতবাড়ি।প্রায় কুড়ি বছর আগে গৌর সামন্ত তাঁর দুই শ্যালককে সঙ্গে নিয়ে এই জমি কিনেছিলেন। পরে তিন পরিবার মিলে তৈরি করেন বসতবাড়ি। যদিও বাড়ির অংশ আলাদা করে তিন পরিবার বসবাস শুরু করে।বর্তমানে কর্মসূত্রে গৌর সামন্ত এবং তাঁর এক শ্যালক অনুপ মণ্ডল পরিবার নিয়ে রয়েছেন ভিনরাজ্যে।বাড়ির একটি অংশে থাকেন আর এক শ্যালক উৎপল মণ্ডলের পরিবার।আর বিপত্তি শুরু হয়েছে গৌর সামন্তের ফাঁকা পড়ে থাকা অংশে।প্রথমে একটি ঘর,তারপর আরেকটি তারপর একের পর এক শোবার ঘর!কেউ ঘরে নেই।
দরজা বন্ধ।বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন।তারপরও আচমকা ঘরের ভিতর থেকে ধোঁয়া!কেউ বুঝে ওঠার আগেই আগুন গ্রাস করে নিচ্ছে ঘরের আসবাব, বিছানা, সোফা—যা কিছু সামনে পাচ্ছে, সব।আগুন নেভানো হচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত।তারপর আবার—সেই বন্ধ ঘরেই আগুন!কীভাবে?কোথা থেকে?কে বা কারা আগুন লাগাচ্ছে?নাকি সত্যিই এর পিছনে এমন কোনো রহস্য রয়েছে, যার উত্তর এখনও মেলেনি?এই প্রশ্নের উত্তর না মেলায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে।বাড়ির চারপাশে ঝোপঝাড় আর জঙ্গল। দিনের আলোতেও জায়গাটির পরিবেশ কিছুটা গা ছমছমে। আর রাত নামলেই সেই বাড়িকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে আরও রহস্যময় আবহ।বাড়ির দেওয়ালে রয়েছে নানা ধরনের চিহ্ন।স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, ওই চিহ্নে হাত দিলেই নাকি বিপদ আসে!ফলে স্বাভাবিকভাবেই ছড়িয়েছে ‘ভূতের বাড়ি’র গুজব।কেউ বলছেন অলৌকিক শক্তি না থাকলে বন্ধ ঘরে এমনভাবে আগুন লাগা সম্ভব নয়।কিন্তু সত্যিই কি তাই?নাকি এই রহস্যের পিছনে রয়েছে মানুষেরই হাত?কারণ বাড়িতে থাকা উৎপল মণ্ডলের পরিবার এখন কার্যত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।উৎপলের স্ত্রীও ভয়ে কাঁটা হয়ে রয়েছেন।কিন্তু ভয় পেলেই তো বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া সম্ভব নয়।যাবেনই বা কোথায়?তাই একদিকে আগুনের ভয়, অন্যদিকে অজানা আতঙ্ক—দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে কার্যত অসহায় পরিবারটি।তবে দমকল আধিকারিকরা কিন্তু এই ঘটনাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন না।তাঁদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে।তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ্যে নিশ্চিত করে কিছু বলতে নারাজ আধিকারিকরা।রহস্যের সমাধানে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে অনুসন্ধান।শনিবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের একটি দল।ভূত বা অলৌকিক শক্তির গল্পে তাঁরা বিশ্বাসী নন। তাঁদের লক্ষ্য—ঘটনার পিছনে থাকা বাস্তব কারণ খুঁজে বের করা।অন্যদিকে বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানেরও সন্দেহ, তিন শরিকের দীর্ঘদিনের বিবাদের সুযোগ নিয়ে কেউ হয়তো ‘ভূতের কাণ্ড’-এর আড়ালে অন্য কোনো ঘটনা ঘটাচ্ছে।অর্থাৎ প্রশ্ন এখন একটাই—ভূত, নাকি মানুষের ষড়যন্ত্র?বন্ধ ঘরে আগুন লাগছে কীভাবে?বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও আগুনের উৎস কোথায়?কেউ কি লুকিয়ে বাড়ির ফাঁকা অংশে ঢুকছে?নাকি এমন কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে, যা এখনও সবার নজরের বাইরে?বৈকুণ্ঠপুরের এই বাড়িতে আপাতত উত্তর নেই।আছে শুধু পোড়া আসবাবের গন্ধ…দেওয়ালে রহস্যময় চিহ্ন,নির্জন বাড়ির নিস্তব্ধতা আর মাঝেমধ্যে হঠাৎ ধোঁয়ার কুণ্ডলী!আগুন নিভে যাচ্ছে…কিন্তু রহস্যের আগুনটা যেন আরও জ্বলে উঠছে।শেষ পর্যন্ত এই আগুনের আসল উৎস কী?ভূতের ছায়া, মানুষের হাত—নাকি বিজ্ঞানের অজানা কোনো সূত্র?উত্তর খুঁজছে দমকল, পুলিশ এবং বিজ্ঞান মঞ্চ।আর উত্তর না মেলা পর্যন্ত বৈকুণ্ঠপুরের এই বাড়িটা যেন রাত নামলেই বলে উঠছে—রহস্য এখনও শেষ হয়নি…”
বন্ধ ঘরে বারবার আগুন! ভূতের আতঙ্ক, নাকি লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য?






