এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

ঘাটালে আক্রোশের বশে শিশুদের খাবারে বিষ মেশানোর অভিযোগ, কাঠগড়ায় পরিচারিকা

Published on: August 15, 2026 । 5:02 PM

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: ছুটি নিয়ে বচসার জেরে চরম আক্রোশ। আর সেই আক্রোশ মেটাতে দুই কচি প্রাণকে শেষ করে দেওয়ার ছক কষার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠল এক পরিচারিকার বিরুদ্ধে। খাবারে বিষাক্ত ন্যাপথলিন গুঁড়ো মিশিয়ে দেওয়ার জেরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দুই শিশু বর্তমানে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঘাটাল শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘাটাল শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুনীল মাইতি ও তাঁর স্ত্রী তনুশ্রী মেটে মাইতি দুজনেই পেশায় স্কুলকর্মী। সুনীলবাবু ঘাটাল ব্লকের কুঠিকোণারপুর হাইস্কুলের টিআইসি এবং তনুশ্রীদেবী দাসপুর-১ ব্লকের রসিকগঞ্জ হাইস্কুলের ক্লার্ক। এই দম্পতির দুই পুত্রসন্তানের মধ্যে বড়টির বয়স ১৩ বছর এবং ছোটটি নেহাতই শিশু। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজের সূত্রে দিনের বেলা বাড়ির বাইরে থাকায় সন্তানদের দেখভালের জন্য মাস চারেক আগে এক পরিচারিকাকে কাজে বহাল করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু নিয়োগের সময় ওই পরিচারিকার সঠিক পরিচয় বা পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে রাখা হয়নি। জানা গিয়েছে, ছুটি নেওয়াকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ওই পরিচারিকার সঙ্গে দম্পতির প্রায়শই অশান্তি হত। সেই ক্ষোভ থেকেই এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।
তনুশ্রীদেবীর অভিযোগ, গত ১৩ আগস্ট তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যখন স্কুলে ছিলেন, সেই সুযোগে পরিচারিকা সাথী মিশ্র সন্তানদের জন্য রাখা নির্দিষ্ট ফুড সাপ্লিমেন্টের কৌটোয় ন্যাপথলিন গুঁড়ো করে মিশিয়ে দেয়। ন্যাপথলিন মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত একটি উপাদান, যা পেটে গেলে শরীরে দ্রুত বিষক্রিয়া শুরু হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ের জন্যই এটি সমান বিপজ্জনক। ওইদিন স্কুল থেকে ফিরে অন্যান্য দিনের মতোই তনুশ্রীদেবী সন্তানদের ওই ফুড সাপ্লিমেন্ট খাইয়ে দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাচ্চাদুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি তাদের ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পরিচারিকা সাথী মিশ্র। তাঁর দাবি, তিনি খাবারের সঙ্গে কিছুই মেশাননি, অকারণে বদনাম করার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে এই মিথ্যে রটানো হচ্ছে। অন্যদিকে তনুশ্রীদেবীর পাল্টা দাবি, বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে ওই পরিচারিকাকে খাবারে ন্যাপথলিন মেশাতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। ঘাটাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।