এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

সেই আলোকে প্রাণের প্রদীপ জ্বালাও

Published on: April 15, 2026 । 9:58 AM
দেবাশিস কুইল্যা
দেবাশিস কুইল্যা
বিদ্যালয় জীবন থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ থাকায় বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা। অবসর সময় বই পড়া, রেডিও শোনা ও লেখালেখি নিয়েই কাটে। শখের বিষয় গান শোনা। মাঝে মাঝে নানান পত্রপত্রিকায় লোকসংস্কৃতি ও স্থানিক বিষয়ে লেখালেখি করা।
📞 +918609060500 WhatsApp

সেই আলোকে প্রাণের প্রদীপ জ্বালাও
—দেবাশিস কুইল্যা
বিশ্বাস ছিল, সে আসে ঐ তিল ক্ষেত পেরিয়ে বাউলের একতারা হাতে , উদাসী সুরে । তার পিঙ্গল বাসে লেগে থাকে বাতাবি ফুলের রেণু । হিজল ফুলের নুপুর পায়ে তার ছান্দসিক সুর । তার গানের সুরের আলাপনে নবীনের আহ্বান । দখিনা বাতাসের গায়ে উড়ে নতুন বৈশাখের রঙিন উত্তরীয় । রুদ্রের দীপ্তি তার আভরণে । দীপ্তময় চৈত্রের রোদ্দুর পথে পথে যত গড়িয়েছে দুরন্ত বিকেলের দিকে তখনই তার পথ মিলেছে বৈশাখে ।
১লা বৈশাখের রঙিন খামে লেখা চিঠি কড়া নেড়ে বলে যেত সে আসছে জীর্ণতা মুছে আর ক্লান্তি দূর করে পূর্ণতার আশ্বাসে । যে চিঠিতে ছোটদের রঙিন আহ্বান , সেই আবার হালখাতায় গৃহস্থের জন্য ঋণ শোধের সতর্ক হুইসেল । চিঠির কাগজে তৈরি পতিঙ্গা বাতাসে ঘোরার সাথে সাথে সময়ের খণ্ডিত অস্তিত্বের এক একটি প্রহর শেষ । বুঝেছি জীবনের অনেক একলা বৈশাখ পার হওয়ার পর ।
নীল সংক্রান্তির অনেক আগে থেকেই প্রকৃতির নিয়ম বদলানোর সাথে সাথে গৃহস্থের উঠোনও বদলে যেত গোবর জল দেওয়া হাতের স্পর্শে । নিকানো উঠানে বৈশাখের প্রথম ভোর কেমন করে আসে সেই জিজ্ঞাসা নিয়ে ঘুম চোখে রাত্রি পার করা । পয়লা বৈশাখের সূর্যের আলো মাটি স্পর্শ করার আগেই জাগিয়ে দিত ভেতরের কৌতূহল । প্রভাতে ঘুম জড়ানো চোখে দেখতাম বাবা কাকারা জমিতে জমিতে উগান দিতে ব্যাস্ত । মায়েরা সব সারাবছরের মঙ্গল প্রদীপের আলো জ্বালানোর কামনায় ব্যস্ত নববর্ষের পূজা আয়োজনে । মন্দিরে মন্দিরে ধুপ ধুনার গন্ধ আর মঙ্গল ধ্বনি যেন নূতন করে জেগে ওঠার , প্রানের মন্দিরে আত্মজ্ঞানের , আত্মদর্শণের পূর্ণ হওয়ার সঞ্জীবন সুধা । সকাল দুপুরে গড়িয়ে যাওয়ার মাঝে ষোল আনা বাঙালীয়ানায় রান্নার আয়োজন । সবার সাথে হৈ হুল্লোড়ে উদরস্থ করার মধ্যে বাজত যেন সারা বছরের ঐক্যের সুর । মায়েদের বিশ্রাম ছিল বলে মনে হত না । বিকেলের গোধূলি বেলায় নববর্ষের সূর্য চুম্বন এঁকে যেত সীমান্ত প্রহরীর মত । বেল , জুঁই , গন্ধরাজে সুবাস ছড়ানো সন্ধ্যার দখিনা বাতাসে বড়রা দোকানে দোকানে হালখাতা সেরে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে যখন বাড়িতে ফিরত তখন জেগে থাকার ধৈর্য্য হারিয়ে ভাইবোনেরা ঘুমিয়ে পড়তাম । মা ডেকে ঘুম ভাঙাত আমাদের । ঘুম জড়ানো চোখেই মায়ের ভাগ করে দেওয়া সেই মিষ্টির স্বাদ এখন স্পষ্ট অনুভব করি । আমার সেদিনের একলা বৈশাখ এখন পয়লা বৈশাখ হয়ে আসে সময়ের প্রান্ত সীমানায় । অনুভব করি বদলে যাওয়া সময়ের অন্তহীন নির্লিপ্ততা । ভাল্ লাগেনা কথার মাঝে ফিরে দেখা সময়ের সেই আলোকে প্রাণের প্রদীপ জ্বালাও আমার প্রথম একলা (পয়লা) বৈশাখ ।

নিউজ ডেস্ক

‘স্থানীয় সংবাদ’ •ঘাটাল •পশ্চিম মেদিনীপুর-৭২১২১২ •ইমেল: [email protected] •হোয়াটসঅ্যাপ: 9933998177/9732738015/9932953367/ 9434243732 আমাদের এই নিউজ পোর্টালটি ছাড়াও ‘স্থানীয় সংবাদ’ নামে একটি সংবাদপত্র, MyGhatal মোবাইল অ্যাপ এবং https://www.youtube.com/SthaniyaSambad ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে।