কাজলকান্তি কর্মকার, সাংবাদিক[M#9933066200]: আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মান পেলেন শিল্পী শুভদীপ মাইতি। বর্তমানে সে দশম শ্রেণির পড়ুয়া। ঘাটাল থানার শ্যামসুন্দরপুর গ্রামে বাড়ি। সম্প্রতি ‘আর্ট অ্যাভিনিউ’ আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্রুকলিন হেরিটেজ অ্যাওয়ার্ড’-এ তাঁকে ‘সার্টিফিকেট অফ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। অনলাইন আর্ট ও ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা এবং প্রদর্শনীতে তাঁর চিত্রকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান দেওয়া হয়। ৩১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা অংশ নেন। শুভদীপের এই সাফল্যে শিল্পমহলে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন অনেকে।
রক্ষণশীল সমাজের ভ্রুকুটি আর হাজারো কটাক্ষকে উপেক্ষা করে ছকভাঙা লড়াইয়ে শামিল হয়েছে শুভদীপ অদম্য জেদ আর প্রতিভাকে পাথেয় করে প্রথাগত তালিম ছাড়াই নৃত্য ও চারুকলায় ওই নজরকাড়া সাফল্য এনে সে আজ সকলের গর্ব। এই তরুণের ঝুলিতে ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে রাজ্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের প্রায় ষাটটি পুরস্কার। ছেলেরা ধ্রুপদী নাচ করবে, গ্রামীণ সমাজে এই ভাবনা আজও সহজে মেনে নেওয়া হয় না। তবে নিন্দুকদের কথায় কান না দিয়ে ওড়িশি ও ভরতনাট্যমের মতো শাস্ত্রীয় নৃত্যে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছে এই কিশোর। ফিউশন, ফোক এবং ফ্রিস্টাইল ওয়েস্টার্ন নাচেও তার সমান দক্ষতা রয়েছে। তবে শুধু নাচ নয়, রং-তুলির জগতেও তার অবাধ বিচরণ। মাত্র দশ বছর বয়সে কারও কাছে না শিখেই সে মাটি দিয়ে দেবদেবীর প্রতিমা গড়া শুরু করে। ক্যানভাসে ছবি আঁকা থেকে শুরু করে কুলো বা পোশাকের ওপর নিপুণ নকশা তৈরিতেও তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। রূপসজ্জা থেকে শুরু করে বাঁশির মতো বাদ্যযন্ত্র বাজানো—সবই সে নিজের চেষ্টায় রপ্ত করেছে। নিজের এই শিল্পকর্মগুলিকে সে নিছক শখের মধ্যে আটকে রাখেনি। নিজের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করে এই অল্প বয়সেই সে স্বনির্ভরতার পথ প্রশস্ত করেছে। এত সাফল্যের মাঝেও তার মানবিক দিকটি অটুট। আগেই বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্য, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পঞ্চাশ থেকে ষাটটিরও বেশি পুরস্কার তার ঝুলিতে এসেছে। শিল্পের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও সে নিজেকে যুক্ত রেখেছে। একটি এনজিও-র সঙ্গে যুক্ত থেকে অসহায় মানুষ ও পশুপ্রাণীদের সাহায্যে সে সর্বদাই এগিয়ে আসে। শুভদীপের এই বহুমুখী প্রতিভা ও মানবিক বোধ আগামী প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।







