‘সৌমেন মিশ্র,স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: সরকারি হাসপাতালের ‘উদাসীনতায়’ চরম মাশুল চোকাতে হল এক দরিদ্র দিনমজুর গৃহবধূকে। সামান্য পেটের ব্যথা ও বমির চিকিৎসার জন্য গিয়ে তাঁকে খোয়াতে হল আস্ত একটি ডান হাত! ঘটনাটি দাসপুর থানার হরিরাজপুর গ্রামের। ৬ জুলাই ২০২৬ রাতে পেটে ব্যথা নিয়ে স্থানীয় নাড়াজোল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পুতুল দোলই। চিকিৎসক তিনটি সাধারণ ওষুধ ও ইনজেকশন লিখেছিলেন। অভিযোগ, নার্স সেই ইনজেকশন দেওয়ার পরেই পুতুলদেবীর ডান হাতে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। ধীরে ধীরে হাতটিতে পচন ধরে। মেদিনীপুর ঘুরে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ১৫ জুলাই কনুইয়ের নীচ থেকে তাঁর ডান হাতটি কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।
পুতুলদেবী ও তাঁর স্বামী কিঙ্কর দোলই দু’জনেই দিনমজুর। পরিশ্রমে গড়া সংসারে আজ ঘোর অন্ধকার। স্ত্রী কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, তাঁকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য স্বামীকেও দিনের পর দিন কাজ কামাই করতে হচ্ছে। চরম আর্থিক সংকটে ধুঁকছে পরিবারটি।
কিঙ্করবাবু ২৮ জুলাই দাসপুর থানায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের মতে, এক্ষেত্রে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসার নথি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বয়ান খতিয়ে দেখা উচিত। কিন্তু প্রশ্ন হল, স্বাস্থ্য দপ্তরের কি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনও দায়বদ্ধতা নেই? একজন গরিব রোগীর হাত পচে খসে যাওয়ার পরও প্রশাসন কেবল সরকারি খাতায় অভিযোগ জমা পড়ার অপেক্ষায় হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? নাড়াজোলবাসীর একটাই ক্ষোভ, গাফিলতি ওষুধে ছিল নাকি প্রয়োগে, সেই উত্তর হয়তো নিয়মমাফিক তদন্তের পর একদিন মিলবে। কিন্তু স্বাস্থ্য দপ্তরের এই অমানবিক উদাসীনতার বিচার বা ক্ষতিপূরণ এই দরিদ্র পরিবারটি পাবে কি?
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী বলেন, এনিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর একটি অভিযোগ পেয়েছে। ঘটনার বিভাগীয় তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নাড়াজোল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তের রিপোর্ট এলেই এনিয়ে মন্তব্য করব। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়মঅনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পেটের ব্যথার চিকিৎসা করাতে গিয়ে ডান হাত বাদ দিতে হল গৃহবধূকে






