তৃপ্তি পাল কর্মকার, ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সংলগ্ন জেলার সীমানায় খুকুড়দহ সেতুর জীর্ণ দশার কারণে ভারী যান নিয়ন্ত্রণ করতে এক বছর আগে সেখানে প্রায় সাড়ে তিন মিটার উচ্চতায় হাইটবার বসানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল দুর্বল সেতুটিকে রক্ষা করা। কিন্তু সেই সুরক্ষাকবচই এখন মারণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দাসপুর থানার অন্তর্গত এই খুকুড়দহ হাইটবারে ধাক্কা লেগে ফের এক বাসকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, প্রাত্যহিক সচেতনতার অভাব কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিগত ছ’মাসে এই একই জায়গায় অন্তত আট থেকে দশজন আহত হয়েছেন, মারা গিয়েছেন দুজন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, এই অহেতুক মৃত্যুগুলির দায় আসলে কার? একদিকে প্রশাসন সেতুর সুরক্ষায় হাইটবার বসিয়ে নিজেদের দায়িত্ব সেরেছে, অন্যদিকে বাসকর্মী ও চালকদের চূড়ান্ত সমন্বয়হীনতা এবং চরম উদাসীনতা যাত্রীদেরও প্রতিনিয়ত বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অবাক করার বিষয় হল, যে চালক বা খালাসিরা প্রতিদিন একাধিকবার এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন, তাঁরাই কেন বারবার এই ফাঁদে পড়ছেন? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাসচালকদের চূড়ান্ত গাফিলতিই এর অন্যতম প্রধান কারণ। বিপজ্জনক এই সেতুর সামনে পৌঁছনোর আগে চালক কেন আগেভাগে তাঁর সহকর্মীদের বা ছাদে থাকা যাত্রীদের সতর্ক করছেন না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। শুক্রবারের ঘটনাতেও দেখা গিয়েছে, বাসচালক আচমকা গাড়ি এগিয়ে নেওয়ায় দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা কর্মী সজোরে হাইটবারে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়েন।
হাইটবার: কার গাফিলতিতে বারবার ঝরছে প্রাণ?







