এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

হাইটবার: কার গাফিলতিতে বারবার ঝরছে প্রাণ?

Published on: August 20, 2026 । 9:41 AM

তৃপ্তি পাল কর্মকার, ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: পূর্ব ও  পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সংলগ্ন জেলার সীমানায় খুকুড়দহ সেতুর জীর্ণ দশার কারণে ভারী যান নিয়ন্ত্রণ করতে এক বছর আগে সেখানে প্রায় সাড়ে তিন মিটার উচ্চতায় হাইটবার বসানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল দুর্বল সেতুটিকে রক্ষা করা। কিন্তু সেই সুরক্ষাকবচই এখন মারণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দাসপুর থানার অন্তর্গত এই খুকুড়দহ হাইটবারে ধাক্কা লেগে ফের এক বাসকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, প্রাত্যহিক সচেতনতার অভাব কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিগত ছ’মাসে এই একই জায়গায় অন্তত আট থেকে দশজন আহত হয়েছেন, মারা গিয়েছেন দুজন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, এই অহেতুক মৃত্যুগুলির দায় আসলে কার? একদিকে প্রশাসন সেতুর সুরক্ষায় হাইটবার বসিয়ে নিজেদের দায়িত্ব সেরেছে, অন্যদিকে বাসকর্মী ও চালকদের চূড়ান্ত সমন্বয়হীনতা এবং চরম উদাসীনতা যাত্রীদেরও প্রতিনিয়ত বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অবাক করার বিষয় হল, যে চালক বা খালাসিরা প্রতিদিন একাধিকবার এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন, তাঁরাই কেন বারবার এই ফাঁদে পড়ছেন? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাসচালকদের চূড়ান্ত গাফিলতিই এর অন্যতম প্রধান কারণ। বিপজ্জনক এই সেতুর সামনে পৌঁছনোর আগে চালক কেন আগেভাগে তাঁর সহকর্মীদের বা ছাদে থাকা যাত্রীদের সতর্ক করছেন না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। শুক্রবারের ঘটনাতেও দেখা গিয়েছে, বাসচালক আচমকা গাড়ি এগিয়ে নেওয়ায় দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা কর্মী সজোরে হাইটবারে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়েন।

অবশ্য এর বিপক্ষেও জোরালো যুক্তি রয়েছে। ঘাটাল মহকুমা বাস মালিক সংগঠনের দাবি, তারা বারবার কর্মীদের সতর্ক করেছেন। সেতুতে ওঠার আগে বাস থামিয়ে ছাদে কেউ আছেন কি না, তা দেখে নেওয়ার কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনও প্রয়োগ নেই। বাসকর্মীদের চরম অন্যমনস্কতা এবং নিয়মের তোয়াক্কা না করা এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি, যাত্রীদের একাংশেরও দায় কম নয়। চালক বা কন্ডাক্টরের অলক্ষ্যে বাসের ছাদে উঠে বসা বা দরজায় ঝুলে যাতায়াত করার মতো বিপজ্জনক প্রবণতা তাঁরা কিছুতেই ছাড়তে পারছেন না।
এই পরিস্থিতি ঠেকাতে অবিলম্বে কঠোর এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রথমত, হাইটবারের আগে উভয় দিকে স্পিড ব্রেকার এবং রাতে জ্বলজ্বল করবে এমন সতর্কবার্তা লেখা বড় বোর্ড লাগাতে হবে। দ্বিতীয়ত, পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া হাতে বাসের ছাদে ওঠা এবং দরজায় ঝুলে যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। নিয়ম ভাঙলে কড়া জরিমানার ব্যবস্থা করা জরুরি। তৃতীয়ত, বাস মালিকদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে চালক সেতুর আগে বাস সম্পূর্ণ থামিয়ে সবদিক খতিয়ে দেখে তবেই এগোন। হাইটবার বসানোই শেষ কথা নয়, প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই সেতু আরও অনেক তরতাজা প্রাণ কেড়ে নেবে।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।