এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

ভুল পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা নাকি রিহ্যাবের আড়ালে গুন্ডাগিরি! চন্দ্রকোণায় গণধোলাইয়ের শিকার চার যুবক

Published on: September 5, 2026 । 11:50 AM

নিজস্ব সংবাদদাতা, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: শুক্রবার রাতে চন্দ্রকোণা থানার সাইকেল আরোহী এক ব্যক্তিকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে চার যুবক। এরপরই গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে গণধোলাই জুটল তাদের কপালে। পরে চন্দ্রকোণা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেউড়গ্রাম মোড় থেকে সাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা রাজু পাল। বেউড়গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে কালীমন্দিরের মোড়ে পৌঁছতেই একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে এসে চার যুবক তাঁর পথ আটকায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ি থেকে নেমে ওই ব্যক্তিরা রাজু পালকে পিছন থেকে শক্ত করে চেপে ধরে এবং হুমকি দিতে দিতে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। অপ্রত্যাশিত এই আক্রমণে প্রাণভয়ে চিৎকার শুরু করেন ওই সাইকেল আরোহী। সেই সময় পাশের কালীমন্দিরে পুজো করছিলেন পুরোহিত বসন্ত পালোধি। বিকট চিৎকার শুনে তিনি কাল বিলম্ব না করে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং পরিস্থিতি অনুধাবন করে চিৎকার করে গ্রামবাসীদের সতর্ক করেন।
পুরোহিতের ডাকে মুহূর্তের মধ্যে শয়ে শয়ে গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং গাড়ি-সহ ওই চার অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। আটকের পর তাদের বেউড়গ্রাম শিবমন্দিরের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উত্তেজিত জনতা তাদের উত্তম-মধ্যম দেয় এবং চরম জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ফেলে। ওই যুবকরা দাবি করে, তারা মূলত একটি হোম বা রিহ্যাব সেন্টারের প্রতিনিধি, যারা মানসিক ভারসাম্যহীন ও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, ‘রাজু মাইতি’ নামে এক স্থানীয় ব্যক্তির স্ত্রীর ডাকেই তারা এসেছিল। কিন্তু রাতের অন্ধকারে ভুলবশত তারা রাজু মাইতি মনে করে সম্পূর্ণ নির্দোষ রাজু পালকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় বাসিন্দারাই চন্দ্রকোণা থানায় খবর দেন। খবর পাওয়ামাত্রই গভীর রাতে চন্দ্রকোনা থানার ওসির নেতৃত্বে অন্তত ছয়-সাত জন পুলিশকর্মীর একটি দল দ্রুত বেউড়গ্রাম শিবমন্দিরে হাজির হয়। ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে ধৃত চার জন এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করে চন্দ্রকোণা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কোনও আইনি কাগজপত্র বা পুলিশের অনুমতি ছাড়া রাতের অন্ধকারে কীভাবে এক জনকে বলপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল, তা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠেছে। রাজু মাইতির স্ত্রীর ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের পরিচয়পত্র বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।

পড়তে ভুলবেন না