নিজস্ব সংবাদদাতা, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: ঘাটাল থানার মনশুকা এলাকা থেকে চোলাই মদ নিয়ে প্রায়ই হুগলি জেলায় পাচার চলত। আজ, ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার, আবগারি দপ্তরের কর্মীরা সিভিল ড্রেসে ওত পেতে বসেছিলেন ওই পাচারকারীদের ধরার জন্য। হুগলি জেলায় চোলাই মদ পাচার করার সময় আবগারি দপ্তরের কর্মীরা পিছু নিয়েছে জানতে পেরেই তারা সাইকেল ফেলে দিয়ে জলে ঝাঁপিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। আবগারি দপ্তরের কর্মীরাও তাদের পিছু নিয়ে জলে ঝাঁপ দিয়ে এক পাচারকারীকে বন্যায় ডুবে থাকা জলের মধ্যে থেকে ধরে ফেলেন। ধৃত ব্যক্তির নাম প্রহ্লাদ সাঁতরা। মনশুকায় বাড়ি। সেই সঙ্গে মোট ৯০০ লিটার চোলাই মদ এবং পাঁচটি সাইকেল উদ্ধার হয়েছে।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে আবগারি আধিকারিকদের কাছে খবর আসে যে, মনশুকা এলাকা থেকে সাইকেলে করে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ হুগলির দিকে পাচারের চেষ্টা চলছে। সেই মতো আগেভাগেই প্রস্তুতি নেয় দপ্তরের একটি বিশেষ দল। আবগারি দপ্তরের ঘাটাল সার্কেলের ওসি সুভাষ হালদারের নেতৃত্বে মনশুকা থেকে নৌকায় নদী পেরিয়ে অপর প্রান্তে পৌঁছে একটি মোটরবাইকের সাহায্যে সন্দেহভাজনদের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করেন কর্মীরা। এরপরই ওই পাচারকারীদের পিছু নেওয়া হয়।
কিছুটা পথ যাওয়ার পরেই আবগারি কর্মীরা দেখতে পান, কয়েকজন ব্যক্তি ভারী নাইলনের ব্যাগ চাপানো সাইকেল নিয়ে হুগলির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক সেই সময়েই পেছন থেকে আবগারি দপ্তরের দলকে আসতে দেখে সন্দেহভাজনরা ঘাবড়ে যায়। তারা চোলাই মদ বোঝাই সাইকেলগুলি রাস্তায় ফেলেই জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। বেগতিক বুঝে আবগারি দপ্তরের এক কর্মীও সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দেন এবং তাড়া করে একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তবে বাকি অভিযুক্তরা সাঁতরে চম্পট দিতে সক্ষম হয়।
এরপর ধৃতের সামনেই রাস্তায় পড়ে থাকা সাইকেল ও তার সঙ্গে থাকা নাইলনের ব্যাগগুলিতে তল্লাশি চালানো হয়। তাতেই পাঁচটি সাইকেল থেকে মোট ৯০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেন কর্মীরা। ধৃত ব্যক্তিকে এদিন ঘাটাল মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। বাকি পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি জারি রেখেছে আবগারি দপ্তর।
জলে ঝাঁপিয়ে সিনেমার কায়দায় চোলাই মদের পাচারকারীকে ধরল আবগারি দপ্তর







