এই মুহূর্তেক্রীড়া/অনুষ্ঠানঅন্যান্যসাহিত্যসম্পাদকীয়নোটিশবোর্ড

E-Paper

সার্কাস নিয়ে ঘাটাল শহরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক, কেউ চাইছেন আনন্দ ফিরুক, কেউ চাইছেন খেলার মাঠ বাঁচুক

Published on: October 5, 2026 । 10:55 PM
কেয়া মণ্ডল চৌধুরী‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: ১৪ বছর পর ঘাটালে আবার সার্কাস আসছে।  শেষবার ২০১১ সালে বিদ্যাসাগর স্কুলমাঠে সার্কাস হয়েছিল। তারপর থেকে আর সার্কাসের তাঁবু পড়েনি ঘাটালে। এবার অক্টোবর মাস থেকে ঘাটাল অরবিন্দ স্টেডিয়ামে ‘রাজধানী সার্কাস’ শুরু করার কথা। এত বছর পর সার্কাস আসছে শুনে অনেকেই খুশি। বিশেষ করে ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সার্কাস আসার খবরের সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ নিয়ে শুরু হয়েছে অন্য একটা বিতর্ক। প্রায় দেড় মাস অরবিন্দ স্টেডিয়ামের মাঠ ব্যবহার করবে সার্কাস কর্তৃপক্ষ। সার্কাস শেষ হতে না হতেই শুরু হবে ঘাটাল উৎসব ও শিশু মেলা। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় তিন মাস মাঠে খেলাধুলোর চর্চা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাঁদের আপত্তি এখানেই। মাঠে সারা বছর ছেলেমেয়েরা ক্রিকেট, ফুটবলসহ নানা খেলাধুলো করে। এতদিন মাঠ বন্ধ থাকলে সেই চর্চা কীভাবে চলবে?এই নিয়ে ইতিমধ্যেই মহকুমার ২২টি ক্লাব একসঙ্গে মহকুমা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছে। তাঁদের দাবি, সার্কাস বা মেলা হতেই পারে, কিন্তু তার জন্য খেলার মাঠ এতদিন বন্ধ রাখা ঠিক নয়। আবার সার্কাসের পক্ষে যারা কথা বলছেন, তাঁদের কথাটাও একেবারে অমূলক নয়। সার্কাস এখন আর আগের মতো হয় না। একটা সময় সার্কাস দেখার জন্য মানুষ কত দূর থেকে ছুটে আসত। এখন সেই সার্কাস শিল্পটাই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর ঘাটালে সার্কাস হয় না। ১৪ বছর পর একটা সার্কাস আসছে। ছোট ছেলেমেয়েরা সার্কাস দেখতে চাইছে। তাদের সেই  সার্কাস দেখার সুযোগটাও তো দেওয়া দরকার।
ঘাটালে সার্কাস হচ্ছে বলে ‘স্থানীয়  সংবাদ’-এর ডিজিটাল মিডিয়ায় একটি খবর করা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় সংবাদের অনেক ফলোয়ারও সার্কাস হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। শিক্ষক সুদীপ্ত চক্রবর্তী বলেছেন, শিশু মেলা যদি হতে পারে, তাহলে সার্কাসও হোক। তাঁর কথাকে সমর্থন করেছেন অনেকেই। তাঁদের প্রশ্ন, শিশু মেলার জন্য যদি প্রতি বছর মাঠ ব্যবহার করা যায়, তাহলে ১৪ বছর পর একবার সার্কাস হলে এত আপত্তি কেন? এই প্রশ্নটারও একটা কারণ আছে। শিশু মেলা সাধারণত এমন সময় হয়, যখন ক্রিকেট খেলার সময়। আনুষ্ঠানিক মেলা ১০ দিন হলেও ভাঙা মেলা মিলিয়ে মাঠ প্রায় দেড় মাস ব্যবহার হয়। তখনও খেলাধুলোর চর্চা বন্ধ থাকে,তখন কোনও ক্রীড়াপ্রেমী প্রতিবাদ করে না—তাই সার্কাসের সময়ই শুধু মাঠ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন, সেটা নিয়েও অনেকে কথা বলছেন। আবার শিশু মেলাকে ঘিরে প্রতিবছর যে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়, সেই নিয়েও শহরের অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। ঘাটাল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মণ্টুকুমার দাস সার্কাসের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই তাঁবু খাটানোর কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারি নিয়মে ভারতে সার্কাসে বন্য প্রাণী ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। নিয়ম ভাঙলে লাইসেন্স বাতিল, মালিকের কারাদণ্ড এবং পশু বাজেয়াপ্ত করার মতো আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তাই ‘রাজধানী সার্কাস’-এ মানুষের শারীরিক কসরত, জাদু এবং অ্যাক্রোবেটিক্সের ওপরই মূলত শো হবে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে কোন্নগরের বাসিন্দা এক ব্যবসায়ী তপন কুমার গুঁই  দাবি তুলেছেন, মাঠ বাঁচান, ঘাটাল গড়ুন। তাঁর প্রশ্ন, বিদ্যাসাগর মাঠে বাজার, ঘাটাল কলেজ মাঠে সার্কাস, এভাবে আর কতদিন? তাঁর কথাটাও ফেলে দেওয়ার মতো নয়। শহরের উন্নয়নের নামে যদি একের পর এক খেলার মাঠ অন্য কাজে চলে যায়, তাহলে আগামী দিনে ছেলেমেয়েরা খেলবে কোথায়? বাজারের জন্য যেমন আলাদা জায়গা দরকার, সার্কাস-মেলার জন্যও একটা নির্দিষ্ট জায়গা দরকার।
ঘাটালের মানুষ তাই দু’দিকেই কথা বলছেন। কেউ বলছেন, এত বছর পর সার্কাস এসেছে, হোক। ছোটরা আনন্দ করুক। আবার কেউ বলছেন, সার্কাসের জন্য খেলার মাঠ এতদিন বন্ধ রাখা যাবে না।
দুই কথার মধ্যেই যুক্তি আছে। সার্কাস বন্ধ করে দেওয়া যেমন ঠিক হবে না, তেমনই মাঠও বছরের পর বছর মেলা-সার্কাসের জন্য বন্ধ রাখা যায় না। ঘাটালে সার্কাস হবে, শিশু মেলাও হবে, কিন্তু তার জন্য যদি একটা নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করা যায়, তাহলে হয়তো এই ঝামেলাটাই আর থাকবে না। ছোটরা সার্কাস দেখবে, আর মাঠে খেলাধুলাও চলবে। শেষ পর্যন্ত ঘাটালের মানুষ তো দুটোই চাইছে।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।