কেয়া মণ্ডল চৌধুরী, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: ঋণ নিয়ে বাড়ি তৈরি করেছিলেন ব্যবসায়ী। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় শেষপর্যন্ত আদালতের নির্দেশে ওই বাড়িটি সিল করে দখল নিল ঋণদাতা সংস্থা। চন্দ্রকোণা পুরসভার গোপসাই এলাকার আজ সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ওই মামলার অ্যাডভোকেট কমিশনার তথা ঘাটাল আদালতের আইনজীবী প্রশান্ত দাস বলেন, চন্দ্রকোণা শহরের গোপসাই এলাকার বাসিন্দা তথা ব্যবসায়ী শান্তিনাথ মণ্ডল বাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে ‘চোলামণ্ডলম ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফাইনান্স কোম্পানি’ নামের একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহঋণ নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে সেই ঋণের কিস্তি এবং সুদ মিলিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ বকেয়া পড়ে। শেষপর্যন্ত বকেয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৮ লক্ষ টাকারও বেশি। ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আর্থিক সংস্থাটি আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মামলার শুনানির পর ঘাটালের ACJM আদালত থেকে ওই সম্পত্তি ঋণদাতা সংস্থাকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়। আদালতের এক্সিকিউশন বা কার্যকরীকরণ মামলার নির্দেশ অনুযায়ী অ্যাডভোকেট কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় আইনজীবী প্রশান্ত দাসকে। সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে চন্দ্রকোণা থানার পুলিশ প্রশাসনের কাছে বাহিনী মোতায়েনের আবেদন জানানো হয়েছিল।
সেই নির্দেশ মোতাবেক আজ বেলা এগারোটা নাগাদ পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন নিযুক্ত অ্যাডভোকেট কমিশনার। চন্দ্রকোণা থানার চারজন পুলিশ আধিকারিক এবং মহিলা কনস্টেবল সহ প্রায় ৩৫-৪০ জন পুলিশকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আইনি নোটিস আগেই পৌঁছে দেওয়ায় বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা পূর্বেই স্থান ত্যাগ করেছিলেন, তবে উপস্থিত ছিলেন ঋণগ্রহীতা ব্যবসায়ী। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ বাড়িটি সিল করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তার দখল তুলে দেওয়া হয়।
ঋণ শোধ করতে না পারায় স্বপ্নের বাড়ি দখল হয়ে গেল







