এই মুহূর্তেক্রীড়া/অনুষ্ঠানঅন্যান্যসাহিত্যসম্পাদকীয়নোটিশবোর্ড

E-Paper

প্রতিশ্রুতি নয়, এবার রাজ্যের নতুন সরকারের কাজ দেখতে চায় ঘাটালবাসী

Published on: October 29, 2026 । 12:46 PM

শ্রীকান্ত ভুঁইয়া ও বাবলু মান্না, ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: ৩০ সেপ্টেম্বর পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মতিথিতে তাঁর জন্মভিটে বীরসিংহে এসে ঘাটাল মহকুমার জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বীরসিংহের রাস্তা, আলো, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল, পর্যটন, কমিউনিটি হল থেকে শুরু করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্য, ভিন্ন ক্ষেত্রেই অর্থ বরাদ্দের কথা তিনি বলেছেন। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুরের কথাও জানিয়েছেন তিনি।ঘোষণাগুলি নিঃসন্দেহে  অনেক বড়। শুনে ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘাটালবাসীর মনে এখন একটা প্রশ্ন, এবার কি সত্যিই কাজ হবে?এই প্রশ্নের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। ঘাটালবাসী এর আগেও অনেক ঘোষণা শুনেছে, অনেক প্রতিশ্রুতিও পেয়েছে। বিশেষ করে মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বছরের পর বছর ধরে কথা হয়েছে। কিন্তু বর্ষা এলেই সেই একই জল, একই দুর্ভোগ, একই ভয়। ফলে নতুন কোনও ঘোষণা  বা প্রতিশ্রুতি শুনলেই মানুষের মনে আশা যেমন জাগে, তেমনই সংশয়ও থেকে যায়।এবার বীরসিংহের জন্য যে প্রকল্পগুলির কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে সিংহডাঙা থেকে বীরসিংহ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় সোলার স্ট্রিট লাইট বসাতে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, বড় পুকুরের পাড়ে ‘বিদ্যাসাগর শিশু উদ্যান’ তৈরিতে ৩৫ লক্ষ, নতুক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নে ৪০ লক্ষ, গার্ডওয়াল ও হাঁটার রাস্তার জন্য ৫০ লক্ষ এবং একটি কংক্রিট রাস্তার জন্য ৭৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দের কথা রয়েছে। বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা এবং ঘাটাল বাসস্ট্যান্ডের কাছে মার্কেট কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি হলের জন্য ৮ কোটি টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পর্যটক, ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের জন্য হস্টেল ও কটেজ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচাবাড়ির পরিবারগুলিকে বাড়ি মেরামতের জন্য ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে সাহায্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ফসল বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের কথাও বলা হয়েছে। পাঁশকুড়া-ঘাটাল রেলপথের জমি সংক্রান্ত জট কাটানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।তবে সবকিছুর মধ্যে ঘাটালের মানুষের সবচেয়ে বড় নজর মাস্টার প্ল্যানের দিকে। ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্য ৫০-৫০ শতাংশ অর্থ দেবে, জমি অধিগ্রহণ চলছে এবং পুজোর পর কাজ জোরকদমে শুরু করার কথা মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। আগামী বর্ষার আগেই যতটা সম্ভব কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবার কথাও তিনি বলেছেন।এখন একটাই  প্রশ্ন, এই কাজ কি আদৌ  হবে নাকি শুধু আগের সরকারের মতো প্রতিশ্রুতি হয়ে রয়ে যাবে? ঘাটালবাসী এখন আর শুধু কত টাকা বরাদ্দ হল, সেই হিসাব শুনতে চান না। তারা দেখতে চান, কাজ শুরু হয়েছে। কোথায় কাজ হচ্ছে, কতটা এগোল, কবে শেষ হবে, সেই হিসাবটাই মানুষের দরকার। কারণ বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে  ঘাটালের মানুষের বিশ্বাসে যে ভাঙন ধরেছে, তা শুধু নতুন ঘোষণায় পূরণ হবে না।বীরসিংহ থেকে যে কথাগুলি মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন সেগুলি যেন শুধু সভার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ না থাকে। রাস্তা হোক, আলো জ্বলুক, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নতি হোক, স্কুলের ভবন উঠুক, পর্যটনের পরিকাঠামো তৈরি হোক। আর সবচেয়ে বড় কথা, মাস্টার প্ল্যানের কাজ সত্যিই সম্পন্ন হোক।কথা দেওয়া সহজ। কথা রেখে কাজ করে দেখানোটাই আসল। ঘাটালবাসী এবার আর প্রতিশ্রুতির তালিকা চান না, তারা চান কাজের হিসাব, কাজের গতি এবং কাজের ফল।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।