তৃপ্তি পাল কর্মকার, ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: মেয়েরা যদি রোজ পান্তাভাত খায়, তাহলে তাদের আয়রণের ঘাটতি হবে না একদমই। বাঙালির পান্তাভাত মনকেড়ে নিয়েছে বিদেশীদের কাছেও।
ছেলেবেলায় বাচ্চাদের বকাঝকা করছেন? জানেন কি এতে পরবর্তীতে বাচ্চাদের গেঁটে বাত হতে পারে? সদ্যোজাত শিশুকে ঝাঁকাচ্ছেন? জানেন কি এই কারণেও শিশুর মগজে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে! জোর করে শিশুকে খাওয়ালে শিশু জেদি হয়ে যায়। পেঁয়াজ আদা রসুন দিয়ে কষিয়ে রান্না করছেন? জানেন কি ওই খাবার আপনার পক্ষে হজম করা সহজ নয়।
ছোটো থেকেই মনের কষ্ট চেপে রাখছেন? একটা সময় কষ্ট চেপে রাখার হরমোন ক্ষরণ শেষ হয়ে গিয়ে এমন পর্যায়ে যায় যে পেনকিলারেও কাজ হতে চায় না।
ননস্টিকের বাসনে ধাতবখুন্তি দিয়ে রান্না করলে ক্যান্সারকে আহ্বান করা হয়। আয়রণের ঘাটতি শরীরের সহ ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ফিরে যেতে হবে পুরানো দিনের লোহার কড়া খুন্তিতেই।
দৈনন্দিন জীবনের রোজনামচায় কত শত যে ভুলভ্রান্তি লুকিয়ে রয়েছে, আমরা একদমই জানতাম না। না জেনে করা বহু ভুল থেকেই আমরা ডেকে আনছি ক্যান্সার, স্ট্রোক, হৃদরোগের মত মারণব্যাধি। এই তথ্য তুলে ধরলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসা বিজ্ঞানী কৌস্তুভ দালাল। দাসপুরের নিমতলার এই ভূমিপুত্র ২৬ বছর ধরে সুইডেনে কর্মরত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণাধর্মী ডক্টরেট প্রাপ্ত এই ভারতীয় রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ইউনেস্কো চেয়ারের জন্যও মনোনীত হয়েছেন।
সম্প্রতি দাসপুর-২ ব্লকের দুবরাজপুরের একটি বেসরকারি স্কুলে আয়োজিত এক স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা সভায় দৈনন্দিন জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল কীভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপনের মধ্যে দিয়ে সুস্থ থাকা যায়। বর্তমানে মানুষের অসচেতনতার কারণে বহু রোগ ব্যাধি হচ্ছে, কিছু রোগ এসেছে সভ্যতার হাত ধরে। অথচ জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে পারবে ওষুধ ছাড়াই। বিজ্ঞানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা যেগুলো উপস্থিত মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে তা হল,
মোবাইলের ভুল ব্যবহার মানুষের ঘাড়ে ও ব্রেনে ৩৭ কেজি থেকে ৪০কেজির চাপ ফেলে। ঘাড় নিচু করে ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করলে ঘাড় মাথা পিঠের যে পার্মানেন্ট ড্যামেজ হয় তা আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় না। তবে কি মানুষ মোবাইল ফোন দেখবে না? মোবাইল ফোন দেখার সময় হাত ঝুলিয়ে না রেখে কনুই পেটে রেখে সাপোর্ট দেওয়া উচিত অথবা বারবার হাতের অবস্থান পরিবর্তন করা উচিত।
খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনের ভুলত্রুটির মধ্যে অন্যতম হল সকালে খালি পেটে ব্যায়াম করা। খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীরের চামড়া ও মাংস ঝুলে যায়। সকালে কাজের বা বাজারের আগে সামান্য কিছু সলিড খাবার (যেমন ভাত বা রুটি) খেয়ে নেওয়া উচিত। খালি পেটে চা খাওয়া এবং চা ও বিস্কুট একসাথে খাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি পাকস্থলীর অ্যাসিডের ভারসাম্য নষ্ট করে, আলসার সৃষ্টি করে এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যান্সারের ট্রিগারিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। চা ও বিস্কুট সবসময় আলাদা আলাদা খাওয়া উচিত।
শারিরীক ক্ষতি এড়াতে কাঁঠাল ও পান কখনও একসাথে খাওয়া উচিত নয়। পাউরুটি অতিরিক্ত সেঁকে বা কড়া করে টোস্ট করলে ওপরের কালো অংশে কার্সিনোজেনিক উপাদান তৈরি হয় যা পেটের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। পান্তা ভাত শরীরের আয়রনের ঘাটতি মেটায়, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং পেটের রোগ কমায়। তবে পান্তা ভাতের উপকারিতা পেতে ভাতে সরাসরি কাঁচা নুন বা তেল মেশানো উচিত নয়। নুন ছাড়াই খেতে হবে পান্তাভাত।
প্রাচীনকালের মতো লোহার কড়াইয়ে রান্না করা স্বাস্থ্যকর, যা শরীরে কখনও লোহার ঘাটতি হতে দেয় না। হাঁটা এবং সাঁতার কাটা সবচেয়ে সেরা প্রাকৃতিক ব্যায়াম, যা পেশীকে নরম ও নমনীয় রাখে।
এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানো একেবারেই অনুচিত, এতে হাঁটুর মালাইচাকির একদিক ক্ষয়ে গিয়ে যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়। সবসময় দুই পায়ে সমান ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ানো উচিত।
এক পায়ের উপর আরেক পা চাপিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসা উচিত নয়, এতে লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। জিভ সবসময় মুখের ওপরের মাড়ির খাঁজে টাচ করে রাখা উচিত। এতে মেরুদণ্ড সোজা থাকে, সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাস চলে এবং শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ ভালো হয়। গরম জল বা গরম চায়ে কখনো মধু দেওয়া উচিত নয়। এতে মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। মধু সবসময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় খাওয়া উচিত।
বিজ্ঞানীর প্রায় একঘণ্টা পনেরো মিনিটের এই মনোগ্রাহী বক্তৃতাটি স্থানীয় সংবাদের ডিজিটাল মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। আপনারা চাইলে পুরো ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন। অনেক অজানা জানতে পারবেন। জীবনে না জেনে বহু ভুল ভ্রান্তি করেছি অনেকেই, আধুনিক গবেষণা কি বলছে তা জেনে নিয়ে এবার থেকে সচেতন হতে পারবেন।