এই মুহূর্তেক্রীড়া/অনুষ্ঠানঅন্যান্যসাহিত্যসম্পাদকীয়নোটিশবোর্ড

E-Paper

উন্নত মেশিনের জন্য আটকে দাসপুরের ‘গোল্ড হাব’, পুজোর পরেই চালু করার জন্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

Published on: October 5, 2026 । 10:59 PM
‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল:  দাসপুর-২ ব্লকের চাঁইপাট ফরিদপুরে তৈরি হওয়া গোল্ড হাবটিকে চালু করার জন্য উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হল। ৩১ আগস্ট ওই বৈঠকে গোল্ড হাব কমিটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে মূলত দুটি জিনিস দাবি করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও উন্নত মেশিনারি। প্রশাসনের আধিকারিকরা ওই দুটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দপ্তরে আলোচনা করে সমাধানসূত্র বের করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ওই দুটি চাহিদা মিটে গেলেই আগামী দুর্গা পুজোর পরেই গোল্ড হাবটি চালু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় ছ’বছর ধরে ৭ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পটি ঝুলে রয়েছে। ২০২৩ সালে শিলান্যাস হয়েছিল হাবটির। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে একরকম ঘোষণা করা হয়েছিল যে গোল্ড হাব রেডি। চালু হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষাই সার, এখনও চালু হয়নি দাসপুরের বহু প্রতীক্ষিত ওই গোল্ড হাব। দীর্ঘদিন গোল্ড হাবটি চালু না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল—কবে খুলবে গোল্ড হাবের দরজা? এবার সেই প্রকল্পকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন করে প্রশাসনিক তৎপরতা। আগস্টের শেষদিনে ওই গোল্ড হাব চালু নিয়ে দাসপুর-২ ব্লক অফিসে রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হওয়া প্রশাসনিক বৈঠকে নতুন আশার আলো দেখা দিচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দাসপুরের বিধায়ক তপন দত্ত, দাসপুর-২-এর বিডিও প্রবীর কুমার শিট, ফরিদপুর গোল্ডহাব কমিটির সম্পাদক বাদলচন্দ্র পাল- সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও গোল্ড হাব কমিটির প্রতিনিধিরা। বৈঠকে গোল্ড হাবের বর্তমান পরিস্থিতি, চালুর প্রক্রিয়া এবং এলাকার স্বর্ণশিল্পীদের কীভাবে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা যায়—তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বাদলবাবু বলেন, যেহেতু ওই হাবে মূল্যবান ধাতু সোনার কাজ হবে, তাই বিনা নিরাপত্তায় কাজ করা অসম্ভব। তাই ওই হাবে সর্বক্ষণের জন্য সরকারি নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছে। এবং সেই নিরাপত্তার ব্যবস্থারও আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসনের আধিকারিকগণ। কিন্তু উন্নত মেশিনারি দেওয়ার ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি তাঁরা। বিধায়ক তপন দত্ত বলেন, গোল্ড হাবে মেশিন দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে নিয়মের বাইরে গিয়েও কিছু করা যায় কিনা তা দেখা হবে।
  প্রসঙ্গত, দাসপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বহু মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম সোনার কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের জন্য একটি সংগঠিত কর্মক্ষেত্র তৈরি করা, আধুনিক পরিকাঠামোর সুযোগ পৌঁছে দেওয়া এবং স্বর্ণশিল্পকে আরও বড় বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই ফরিদপুরে এই গোল্ড হাব তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। সেই সঙ্গে যে সমস্ত স্বর্ণশিল্পীরা বছরের পর বছর নিজেদের বাড়ি ঘর পরিজন ছেড়ে ভিন রাজ্যে থেকে কাজ করছেন তাঁরাও নিজেদের এলাকায় থেকেই কাজ ও উপার্জন করতে পারবেন। কোভিড মহামারীর সময় পরিযায়ী স্বর্ণশিল্পীদের দুর্দশার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রকল্পটি শুরু করে। এর উদ্দেশ্য ছিল অন্যান্য রাজ্যের উপর নির্ভরতা কমানো, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা, পেশাদার গহনা তৈরি ও পালিশ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং স্থানীয় কাজের পরিবেশ উন্নত করা। কিন্তু তারপর প্রায় দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর হতে চলল কিন্তু হাব এখনও চালু হয়নি। তবে স্বর্ণশিল্পীরা চাইছেন ভোটের জন্য শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, এই গোল্ডহাবের দরজা এবার সত্যিই খুলুক। প্রকল্পটি কার্যকর হলে শুধু স্বর্ণশিল্পীরাই উপকৃত হবেন না, স্থানীয় কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।