দাসপুরের শিল্পীর গান রেডিওতে নিয়মিত শোনা যাবে

ছবিটি কমল মণ্ডলের

রবীন্দ্র কর্মকার: রেডিওতে নিয়মিত শোনা যাবে দাসপুরের সঙ্গীত শিল্পী কমল মণ্ডলের কন্ঠসঙ্গীত। দেখা যাবে ডিডি বাংলা কলকাতা দূরদর্শনের লাইভ অনুষ্ঠানেও। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ডিডি বাংলার ‘সকাল সকাল’ অনুষ্ঠানে গান গাইতে চলেছেন কমলবাবু। রবীন্দ্র সঙ্গীত থেকে শুরু করে সমকালীন আধুনিক বাংলা গান গেয়ে ঘাটাল মহকুমার এই শিল্পী রাজ্যের বাইরেও প্রশংসা ও খ্যাতি পেয়েছেন। তাঁর কন্ঠের জন্য সঙ্গীতপ্রেমী মানুষজন তাঁকে একডাকে জানেন ও চেনেন। সেই কমলবাবুর কন্ঠ এবার থেকে অল ইন্ডিয়া রেডিওর আকাশবাণী কলকাতার অনুষ্ঠানে শোনা যাবে। কয়েকমাস আগে কমলবাবু অল ইন্ডিয়া রেডিওর অডিশনে ডাক পান। সেই অডিশনে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে নির্বাচিত হয়ে অল ইন্ডিয়া রেডিওর আকাশবাণী কলকাতার পক্ষ থেকে বরীন্দ্র সংঙ্গীত গাইবার জন্য ‘গ্রেডেড ভোকালিস্ট’ নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ রেডিওর নিয়মিত অনুষ্ঠানে গান গাইতে পারবেন তিনি। ঘাটাল মহকুমায় এই খ্যাতি তিনিই প্রথম পেলেন বলা যেতে পারে।
পেশায় পিংলার বড়ই হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষক কমলবাবু দাসপুর-১ ব্লকের কল্মীজোড়ের কুঞ্জপুর গ্রামের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই তিনি গান ভালবাসতেন। শৈশব-কৈশোরের অধিকাংশ সময় কেটেছে মামাবাড়ি সরবেড়িয়াতে। জীবন এবং সংগীতজীবনে মামাদের প্রভাব অত্যন্ত বেশী। কমলবাবু যখন নবম শ্রেণীতে পড়েন তখন এলাকার গানের শিক্ষক কাশীনাথ দত্তের কাছে সঙ্গীতের হাতেখড়ি হয় তাঁর। পরেপরে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কন্ঠসঙ্গীতে মাস্টার্স করেন। মাঝে তিনি অমল কাপড়ীর কাছে রবীন্দ্রসংগীত, সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ভয়েস ট্রেনিং, শঙ্কর ঘোষালের কাছে নজরুলগীতি, শুভেন্দু মাইতির কাছে লোকগান, পূর্বাচল বেরার কাছে কিছুদিন উচ্চাঙ্গ সংগীত শেখেন। বর্তমানে তাঁর সংগীতগুরু প্রখ্যাত গীতিকার-সুরকার-শিল্পী গৌতম ঘোষাল এবং বিশিষ্ট সঙ্গীতব্যক্তিত্ব শ্যামল কাঞ্জিলাল।
ইতিমধ্যে কমলবাবু রূপসী বাংলা চ্যানেলের ‘’আজি এ প্রভাতে’ অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন। আর প্লাস চ্যানেলের ‘গুড মর্নিং বাংলা’ অনুষ্ঠানেও তিনি গান গেয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। রাজ্য সরকারের ‘বাংলা সংগীতমেলা- ২০২০’তেও সফলভাবে সংগীত পরিবেশন করেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠান, বাংলার বাইরে তথা পঞ্জাবের পাতিয়ালা, তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর প্রভৃতি স্থানে নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘সুরের খেয়া’ বাংলা ব্যাণ্ড নিয়ে গিয়ে মাতিয়ে এসেছেন।
কমলবাবুর স্বপ্ন তিনি বর্তমান এবং পরবর্তী প্রজন্মকে সংগীত সাধনামুখী করবেন। তাই তিনি দাসপুরে প্রতিষ্ঠা করেছেন তাঁর ‘সুরের খেয়া’ গুরুকুল নামে প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মকে সংগীত শিক্ষাদানের মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখার অঙ্গীকার নিয়েছেন তিনি। •ছবিটি কমল মণ্ডলের