এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

বর্তমান প্রগতি মার্কেটের জায়গায় কী কী করা যেতে পারে? জনমতে উঠে এল নানান প্রস্তাব

Published on: August 4, 2026 । 8:43 AM

‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: ১৭ জুলাই ঘাটালে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পর বদলে গেছে ঘাটাল শহরের কলেজ মোড়(ঘড়ি মোড়) সহ প্রগতি মার্কেটের চেনা ছবি। যেখানে একসময় সারাদিন মানুষের ভিড়, কেনাবেচা আর ব্যস্ততা ছিল, আজ সেখানে খালি জায়গা। সেই ছবির সঙ্গে মিলেমিশে রয়েছে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কর্ম জীবনের অনিশ্চয়তা, আবার অনেকের কাছে কলেজ মোড় এলাকাকে নতুন করে গড়ে তোলার এটাই সুযোগ। যদিও ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট আশ্বাস দিয়েছেন, প্রগতি বাজারেই সরকারি উদ্যোগে একটি বহুতল বিল্ডিং তৈরি হবে। যেখানে সব্জি, মাছ,মাংস সমস্ত রকমের বাজার বসানো হবে। বিধায়কের আশ্বাসের পরেও এখন মানুষের মনে প্রগতি মার্কেটের নানান প্রশ্ন ও মন্তব্য উঠে আসছে। ‘স্থানীয় সংবাদ’-এর ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘাটালবাসী তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে কিছু মন্তব্য, পরামর্শ তুলে ধরা হল।
•জয়েন্দ্র দে, ব্যবসায়ী, কুশপাতা: প্রগতি মার্কেটের বর্তমান জায়গাটি আগে পুকুর ছিল। তাই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করার আগে সেই জায়গার পূর্বের অবস্থাও বিবেচনায় আনা উচিত।
•তারাশঙ্কর দাসবৈরাগী, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, বাসুদেবপুর হাইস্কুল: শুধু উচ্ছেদ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের ‘বর্ণপরিচয় মার্কেটিং কমপ্লেক্স’-এর আদলে ঘাটালেও একটি আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে তোলা উচিত। সেখানে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি ফল, সবজি, মাছের বাজার, সুলভ শৌচাগার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবার ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।
•প্রশান্ত অধিকারী, সম্পাদক, বিজ্ঞান মঞ্চ: প্রগতি বাজার ঘাটালের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তাই নতুন বাজার গড়ে তুলে যাঁরা আগে সেখানে ব্যবসা করতেন, তাঁদেরই অগ্রাধিকার দিয়ে পুনরায় ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া উচিত।
•বুদ্ধদেব সামন্ত, নেটিজেন: ওখানে একটি বহুতল বাণিজ্যিক বাড়ি তৈরি করা হোক। যে বাড়ির নিচুতলায় থাকবে মাছ, সব্জি, ফুল ও ফলের বাজার। উপরের তলায় থাকবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান, যাত্রী প্রতীক্ষালয়, ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্সই ঘাটালের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
•আশিস লাল, স্থানীয় বাসিন্দা, কুশপাতা: আপাতত ওই এলাকায় পাবলিক শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা সবচেয়ে জরুরি।
•দীপঙ্কর হাইত, ‘স্থানীয় সংবাদ’-এর ফলোয়ার: এই উচ্ছেদ অভিযানকে পূর্ণ সমর্থন করি। এখানে কোনও দোকান উচ্ছেদ হয়নি, সরকারি ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।
•অরূপ গোস্বামী, ‘স্থানীয় সংবাদ’-এর ফলোয়ার: আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসন এই অভিযান চালিয়েছে। তবে আমার মতে, যাঁরা এতদিন ওই এলাকায় ব্যবসা করে সংসার চালিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত। পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক শৌচাগার, যাত্রী প্রতীক্ষালয় এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন, এটিএমের মতো জনপরিষেবার ব্যবস্থাও থাকা দরকার।
অনিমেষ বেরা, ‘স্থানীয় সংবাদ’-এর ফলোয়ার: আমার বিশ্বাস প্রগতি বাজার এলাকায় একটি আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ছোট ছোট দোকানের ব্যবস্থা করা হলে উন্নয়ন ও জীবিকা—দুইয়েরই সমন্বয় সম্ভব।
•দেবদাস দোলই, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, ইড়পালা: আমার প্রস্তাব, ঘড়ির মোড়ে খালি হওয়া জায়গায় একটি বড় সুলভ শৌচাগার, স্থায়ী যাত্রী প্রতীক্ষালয়, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং নারীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার স্যানিটারি ন্যাপকিন এটিএম স্থাপন করা হোক।
প্রগতি মার্কেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যেকের মতামত বিভিন্ন হলেও,একটি বিষয় স্পষ্ট, ঘাটালের মানুষ চান না এই জায়গাটা শুধু ফাঁকা পড়ে থাকুক। তাঁরা এমন একটি পরিকল্পনা চান, যেখানে শহরের সৌন্দর্য বাড়বে, ঘাটালবাসী উন্নত পরিষেবা পাবে এবং একই সঙ্গে যাঁরা বছরের পর বছর এই বাজারকে ঘিরে নিজেদের জীবিকা গড়ে তুলেছিলেন, তাঁরাও নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবেন। উন্নয়নের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন তা শহরের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফুটে উঠবে।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।