কাজলকান্তি কর্মকার[#9933066200]: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যবর্তী সংঘাত মেটার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মহল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ থেমে যাওয়ার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের অর্থনীতির ওপর। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কমলে ভারতীয় শেয়ার বাজারের গ্রাফ এক ধাক্কায় অনেকটা ঊর্ধ্বমুখী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশি লগ্নিকারীদের বিনিয়োগের পথ আরও প্রশস্ত হবে, যা প্রকারান্তরে দেশের কর্মসংস্থান ও আর্থিক বিকাশে জোয়ার আনবে।
#LPG বনাম #PNG: পাইপলাইনেই মুক্তি: ভারতের জ্বালানি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের ঝক্কি কমিয়ে এবার ঘরে ঘরে ‘পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস’ বা পিএনজি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে ভারতে ব্যবহৃত এলপিজি-র প্রায় সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশই আসে হরমুজ দিয়ে। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ বারবার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে, পিএনজি-র প্রায় ৪০ শতাংশ দেশের খনি থেকেই উত্তোলিত হয় এবং অবশিষ্ট অংশ নাইজেরিয়া বা আমেরিকার মতো দেশ থেকে আমদানির সুবিধা থাকায় ভারতের পরনির্ভরশীলতা কমবে। শুধু তাই নয়, পিএনজি বাতাসের চেয়ে হালকা হওয়ায় ছিদ্রপথে গ্যাস লিক করলে তা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যায়, যা এলপিজি-র তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। রান্নার খরচেও প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: যুদ্ধের আঁচ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) এবং ইনডাকশন ওভেনের ব্যবহার ব্যাপক হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সৌরশক্তির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। এছাড়া, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তোলার জন্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আধুনিক চেম্বার তৈরির কাজ শুরু হতে পারে।
সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা: বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নাগরিক সচেতনতা। ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতিতে সাময়িক জনমোহিনী প্রকল্পের পরিবর্তে এখন সাধারণ মানুষও সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেছেন। ফলে যে কোনও সরকারই আসুক না কেন, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও গ্যাসের মজুত ভাণ্ডার গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সচেতন নাগরিকদের এই চাপের মুখেই দেশের সার্বিক উন্নতি ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ থামলেই ভারত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারে, বিশেষজ্ঞমহল তাই বলছে





