প্রভাত ঘোষ, অতিথি সাংবাদিক, ‘স্থানীয় সংবাদ’ [মো- 83458 86396]: ডেবরা থানা শহিদ ক্ষুদিরাম মহাবিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর (আর্মি, নেভি ও এয়ারফোর্স) জওয়ান এবং জুনিয়র কমিশনড অফিসারদের (জেসিও) জন্য খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির উপর আয়োজিত ছয় মাস ব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপ্তি ঘটল। ভারত সরকার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দ্বারা মনোনীত হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেনাকর্মীরা এই কোর্সে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এদিন ওই কোর্সের শংসাপত্র প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ আমন্ত্রিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন ডেবরার বিধায়ক শুভাশিস ওম, প্রতিরক্ষা দপ্তরের অ্যাকাডেমিক অ্যাডভাইজার ড. উজ্জ্বলকুমার ঘটক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কলকাতা ডিজিআর দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনোজকুমার খাটি এবং ডেবরা কলেজের অধ্যক্ষা ড. রূপা দাশগুপ্ত।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মোট ৪০ জন সেনাকর্মী এদিন ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন। গত ছয় মাস ধরে তাঁরা এখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সেনাকর্মীরা জানান, এই কলেজ থেকে তাঁরা সুন্দরভাবে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। শংসাপত্র পাওয়ার পর তাঁরা নিজেদের পুরোনো ইউনিটে ফিরে যাবেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কলেজের অধ্যক্ষা এই মহান কাজের জন্য ডেবরা কলেজকে নির্বাচিত করায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি এই কোর্সটি কলেজে আনার ক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্য ড. উজ্জ্বলকুমার ঘটককেও তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এই কোর্সের মাধ্যমে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কলেজকে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, তা কেবল রাজস্ব বৃদ্ধিই করে না, সেনাকর্মীদের প্রশিক্ষণের ফলে কলেজের ন্যাক (ন্যাক) মূল্যায়নেও প্রভূত উন্নতি হবে।
অধ্যক্ষ আরও জানান, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ইউনিফর্ম পরিহিত সেনাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে থাকায় সাধারণ পড়ুয়ারা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছে। অনেক সময় দেখা গিয়েছে, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা সেনাকর্মীদের সঙ্গে বসে প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন কাজকর্ম এবং যুদ্ধের নানা অভিযানের রোমাঞ্চকর কাহিনি আগ্রহ সহকারে শুনেছে। এর ফলে তাদের মনেও ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক হওয়ার স্বপ্ন জেগেছে। জেসিও-রাও পড়ুয়াদের স্নাতক হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে কীভাবে সামরিক দপ্তরে আধিকারিক বা প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়া যায়, সেই সম্পর্কে নানা তথ্য ও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে কলেজের যুক্ত হওয়ার ফলে আর্থিক উন্নতি ও ন্যাক গ্রেডিং বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্যাম্পাসে একটি সুন্দর শৃঙ্খলাপরায়ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশভক্তি ও সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার উৎসাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ড. উজ্জ্বলকুমার ঘটক তাঁর বক্তব্যে জানান, তিনি গত দশ বছর ধরে অন্ধ্রপ্রদেশ সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের কোর্স পরিচালনা করছেন। প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং রাজ্য সৈনিক বোর্ডের একজন সরকারি উপদেষ্টা হওয়া সত্ত্বেও, নিজের জেলা হওয়ায় এখানকার কলেজগুলির উন্নতির স্বার্থে তিনি এই কোর্সগুলি এখানে এনেছেন। গত এক বছর ধরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়েও এই কোর্স চলছে। এর জন্য তিনি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং ডেবরা কলেজের অধ্যক্ষাকে ধন্যবাদ জানান। বিধায়কের উপস্থিতিতে তিনি জানান, আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি এই ধরনের কাজ ছড়িয়ে দিতে চান। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলির মানোন্নয়ন, আর্থিক বৃদ্ধি, ন্যাক-এর উন্নয়ন এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
বিধায়ক তাঁর বক্তব্যে উজ্জ্বলবাবুকে ধন্যবাদ জানান এবং আশ্বাস দেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের কাজ সম্প্রসারণের জন্য অনুরোধ জানাবেন। এছাড়া তিনি ডেবরায় একটি সৈনিক স্কুল স্থাপনের জন্য উজ্জ্বলবাবুকে অনুরোধ করেন। উজ্জ্বলবাবু তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, সর্বভারতীয় সৈনিক স্কুল সংগঠনের পরিচিত আধিকারিকদের মাধ্যমে এবং বিধায়কের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় তিনি ডেবরায় একটি সৈনিক স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নেবেন। জেলাশাসকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকায় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে তিনি একটি বার্তার মাধ্যমে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, যে সকল সেনাকর্মী এদিন শংসাপত্র নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন, তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কামনা করে তিনি আগাম শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করেছেন।







