সৌমেন মিশ্র, স্থানীয় সংবাদ ঘাটাল: অধিক ফলনের জেরে মাঠে আলুতে দাম পাইনি কৃষকেরা।দাম না মেলায় আলু মাঠে পড়ে নষ্ট হয়।এবছর হিমঘরে আলু মজুত করতে কৃষকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল।চড়া দামে হিমঘরে আলু মজুত করে বিপাকে পড়েছে আলু চাষিরা।হিমঘরে মজুত অধিকাংশ আলু চাষিদের।বর্তমানে হিমঘরে আলুর দাম তলানিতে ঠেকেছে।যার কারণে হিমঘরে আলু বিক্রির পরিমাণ অনেকটাই কমে গিয়েছে।হিমঘর থেকে আলু কিনে ভিন রাজ্য রপ্তানি করে ব্যবসায়ীরা।আলুর দাম নেই,তারউপর ভিন রাজ্য সেভাবে খদ্দের মিলছে না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।তৃণমূল সরকারের ভিন রাজ্য আলু রপ্তানি নিয়ে ভুল নীতিকেই দূষছেন অনেকেই।অভিযোগ,পূর্বতন সরকার আলু রপ্তানিতে লাগাম দেওয়ায় ভিন রাজ্য বাজার নষ্ট হয়েছে।অবশ্য রাজ্য নতুন সরকারের তরফে ভিন রাজ্য আলু রপ্তানিতে আগেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।ভিন রাজ্য আলু রপ্তানিতে ভর্তুকি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি, এখনও তেমন কোনও নির্দেশিকা আসেনি সরকারের তরফে।
হিমঘরে মজুত বিপুল পরিমাণ আলুর ভবিষ্যৎ কি তাই নিয়ে ঘুম উড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণার চাষিদের।হিমঘরে মজুত আলু নিয়ে নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।দেশে আলু উৎপাদনে অন্যতম রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ।রাজ্যের একটা বড় অংশের আলু চাষ হয় হুগলি জেলার পরই পশ্চিম মেদিনীপুরে।আলু চাষের গড় হিসাবে পরিচিত জেলার চন্দ্রকোণা।আলু মজুতের জন্য জেলায় মোট ৯১ টি হিমঘর রয়েছে।চন্দ্রকোণা বিধানসভা এলাকায় হিমঘর রয়েছে ৩০ টি।ব্যবসায়ী সংগঠনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী,এবছর জেলায় ৯১ টি হিমঘর মিলিয়ে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৭ হাজার ২৭৮ প্যাকেট আলু মজুত হয়েছে।৩১ জুলাই অবধি হিমঘরগুলি থেকে আলু বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৫ প্যাকেট।বর্তমানে জেলায় হিমঘরগুলিতে আলু বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৩১ শতাংশ।যা আট থেকে দশ শতাংশ কম বলে মনে করছে আলু ব্যবসায়ী সংগঠন গুলি।অপরদিকে চন্দ্রকোণায় ২৯ টি হিমঘরে আলু মজুত হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৪ প্যাকেট।এখনও পর্যন্ত আলু বিক্রি হয়েছে ৩৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৬২ হাজার প্যাকেট।এখনও পর্যন্ত চন্দ্রকোণায় হিমঘরে মজুত আলুর ৩০ শতাংশ আলু বিক্রি হয়েছে,৭০ শতাংশ আলু এখনও মজুত রয়েছে হিমঘরে।চাষি থেকে ব্যবসায়ী ও হিমঘর সংগঠন সকলেরই আশঙ্কা,সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসে হিমঘর খালি করতে হয়।মাঝে দু’মাস হিমঘর মেরামতের কাজ চলে।মার্চ মাস থেকে হিমঘরে নতুন আলু মজুত শুরু হয়ে যায়।অধিক ফলন হওয়ায় এবছর অতিরিক্ত আলু মজুত হয়েছে হিমঘর গুলিতে।আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রফতানি ও খুচরো বাজারে এই বিপুল পরিমাণ আলু বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব এমনই আশঙ্কা করছে আলু ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি।হিমঘর সূত্রে জানাযায়,শুরুতে হিমঘরে ২০০ প্যাকেট আলু মজুত করতে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল।শেষের দিকে দাম কমে ৪০ হাজার টাকা খরচে হিমঘরে আলু মজুত করে কৃষকেরা।বর্তমানে হিমঘরে ২০০ প্যাকেট আলুর দাম ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।হিমঘরে আলুর দামে পতনের কারণে চাষিদের চাষের খরচ টুকুও উঠছে না।এতেই দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে হিমঘরে আলু মজুত করা চাষিরা।হিমঘরে মজুত আলু ও খুচরো বাজারে আলুর দামের মধ্যে ফারাক নিয়ে সরব হচ্ছেন কৃষকেরা।তাদের দাবি,হিমঘর থেকে সাড়ে পাঁচ টাকা থেকে ছয় টাকা দরে আলু বিক্রি হলেও খুচরো বাজারে আলুর দাম ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।তার লাভ পাচ্ছে না চাষিরা।এই দামের ফারাকের জন্য মধ্যসত্বভোগীদের দায়ী করছেন কৃষকেরা।আলুর দাম না পাওয়ায় ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কৃষকেরা।আলুর দাম না পেয়ে চন্দ্রকোণায় দুজন কৃষক আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে।ভোটের প্রচারে আলুকে হাতিয়ার করে চন্দ্রকোণা বিধানসভায় প্রচারে ঝাঁপিয়ে ছিল বিজেপি।চন্দ্রকোণায় তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি।এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে কৃষক,ব্যবসায়ী থেকে হিমঘর কর্তৃপক্ষ।
হিমঘরে মজুত আলুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় কৃষকেরা।






