করোনা ভাইরাস:বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক,সতর্ক থাকুন আপনিও

তারকনাথ বেরা: চিনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া বিশ্বে নতুন আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। শেষ ১ ফেব্রুয়ারির বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর রির্পোট অনুযায়ী এখন‌ও পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিনে ২৫৯ জন মারা গিয়েছে এবং সমগ্র বিশ্বে ১১ হাজার ৯৫৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত করা গিয়েছে। দিন দিন করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা আরো বাড়তেই থাকছে। মাত্র একদিনেই ( ১ ফেব্রুয়ারি) নতুন ২১২৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে সারা বিশ্বে সতর্কতা জারি করেছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে আমাদের রাজ্যকেও সতর্ক করেছে কেন্দ্র সাস্থ্য মন্ত্রক।

করোনা ভাইরাস কী?
করোনা ভাইরাস হলো ভাইরাসগুলির একটি গ্রুপ যা স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদের শরীরে রোগ সৃষ্টি করে। করোনাভাইরাস ‘নিদুভাইরাস’ শ্রেণীর ‘করোনাভাইরদা’ পরিবারভুক্ত ‘করোনাভাইরিনা’ উপগোত্রের একটি সংক্রমণ ভাইরাস প্রজাতি। এ ভাইরাসের জিনোম নিজস্ব ‘আর‌এন‌এ(রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)’ দিয়ে গঠিত। এর জিনোমের আকার সাধারণত ২৬ থেকে ৩২ কিলো বেস পেয়ার (kilo base-pair) এর মধ্যে হয়ে থাকে যা এ ধরনের ‘আর‌এন‌এ(রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)’ ভাইরাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ। করোনাভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন ‘করোনা(corona)’ থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ ‘মুকুট’। কারণ ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটি দেখতে অনেকটা মুকুটের মত। ভাইরাসের উপরিভাগে প্রোটিন সমৃদ্ধ থাকে যা ‘ভাইরাল স্পাইক পেপলোমা’র দ্বারা এর অঙ্গসংস্থান গঠন করে। এ প্রোটিন সংক্রামিত হওয়া টিস্যু বিনষ্ট করে।

ভাইরাসের উৎস
করোনাভাইরাস ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। প্রথমদিকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ‘ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস’ হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়। পরে সাধারণ সর্দিকাশিতে আক্রন্ত রোগীদের মধ্যে এরকম দুই ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি ‘হিউম্যান করোনাভাইরাস – ২২৯ই (Human Coronavirus 229E)’ এবং ‘হিউম্যান করোনাভাইরাস -ওসি৪৩ (Human Coronavirus OC43)’ নামে নামকরণ করা হয়। এরপর থেকে বিভন্ন সময় ভাইরাসটির আরো বেশ কিছু প্রজাতি পাওয়া যায় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – ২০০৩ সালে ‘SARS-CoV’, ২০০৪ সালে ‘HCoV NL63’, ২০০৫ সালে ‘HKU1’, ২০১২ সালে ‘MERS CoV’ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনে ‘nCov’। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ভাইরাসের ফলে শ্বাসকষ্টের গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেয়।

কীভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস?
মধ্য চিনের উহান প্রদেশে এই রোগের সূচনা। ৩১ শে ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে প্রথম চিনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ ই জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
নোভেল করোনা ভাইরাসের উৎপত্তির নির্দিষ্ট কোন‌ও কারণ এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে বিজ্ঞানীদের অনুমান পশু পাখির সংস্পর্শে থাকা মানুষজন‌ই মূলত এর শিকার। জানা গিয়েছে , চিনের মাছ, মাংসের বাজার থেকে ছড়িয়েছে এই করোনা ভাইরাস।

রোগের লক্ষণ:-
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো, শ্বাস নিতে কষ্ট হ‌ওয়া, জ্বর ও কাশি। বিজ্ঞানীদের মতে,” ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমনের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

এর চিকিৎসা কী?
করোনা নতুন হ‌ওয়ায় এখনও কোনো টিকা বা প্রতিষোধক আবিষ্কার হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে কতগুলি পরামর্শ দিয়েছেন –
(১) নিয়মিত সাবান ও জল দিয়ে হাত পরিষ্কার করা।
(২) হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখা।
(৩) জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা।
(৪) যদি জ্বর, কাশি এবং শ্বাস নিতে সমস্যা হয় তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।
(৫) কাঁচা বা স্বল্প রান্না করা মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলা।