দুই মা এক মেয়ে: এবার পুজোয় মায়ের হাত ধরে ঠাকুর দেখা হলো না চার দেওয়ালে বন্দি মেয়ের

মনসারাম কর, সাংবাদিক, স্থানীয় সংবাদ: অভাবের সংসার তবুও পুজো এলেই কুড়িয়ে পাওয়া ছোট মেয়েটিকে একটা নতুন জামা কিনে দিতেন ঘাটালের সেই দম্পতি। অন্যান্য পরিবারের মত প্রত্যেক বছর পুজোর কটা দিন মেয়ের হাত ধরে কয়েকটা পুজোমণ্ডপে প্রতিমা দেখাতে নিয়ে যেতেন ঘাটালের দেবু দোলই ও ছবিরাণী দোলই। কিন্তু এবছর তা আর হয়নি। ছোট মেয়েটিকে কুড়িয়ে পাওয়ার পর যার নাম দিয়েছিলেন পিউ সেও ভাবেনি তার জীবনে এরকম কিছু ঘটবে। আইনের গেরোয় মাকে ছেড়ে ১৩ বছরের মেয়েটিকে  এখন মেদিনীপুরের  শিশু কল্যান হোমে কাটাতে হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই কয়েকটি প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। কী অপরাধ এই ছোট মেয়েটির? পুজোর সময় মাকে কাছে না পেয়ে ছোট মেয়েটির মনের মধ্যে কতটা কষ্ট হচ্ছে? পালিকা মা ছবিদেবী জানিয়েছেন, আইনের জটে পজোর সময় মেয়েকে দেখতে পাননি, মনে যন্ত্রণা নিয়ে প্রতিটা মুহূর্ত কেটেছে, অভাবের সংসার হলেও প্রত্যেক বছর মেয়েকে সাথে নিয়ে কয়েকটি পুজোমণ্ডপে ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যেতেন তাঁরা, এক প্লেট ঘুগনি আর একটা সেদ্ধ ডিম কিনে দিলেই পিউ খুব খুশি হতো। গর্ভধারিনী মা ইতু সামন্তর কাছে তার মেয়ের নাম রানী, রানীকে  ফিরে পাওয়ার দাবিতে অনড় তিনিও।
আইনি জটলার সূত্রপাত আজ থেকে দশ মাস আগে। গর্ভধারিনী মায়ের বাড়ি খড়ার শহরে আর পালিকা মায়ের বাড়ি ঘাটালের পাকাঘাট বাঁধপাড়ায়। গর্ভধারিনী মায়ের দাবি তার মেয়ে রানী যখন ছোট ছিল তখন তিনি নিজে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। সেই অবস্থায় হঠাৎ ছোট মেয়েটিকে তার কাছে আর দেখতে পাননি। পালিকা মা জানিয়েছেন ঘাটালের এক রাস্তার পাশ থেকে দেড় বছরের মেয়েটিকে কুড়িয়ে নিয়ে এসে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন। নাম দিয়েছেন পিউ। ১২ বছর বয়স পর্ষন্ত পিউ নামেই সে বড় হয়েছে পালিকা মায়ের কাছে। এর পরেই হঠাৎ ছন্দপতন। পালিকা মায়ের বাড়িতে একদিন হঠাৎ পৌঁছে যান গর্ভধারিনী মা ও পুলিশ। আইনের বলে পুলিশ ছোট মেয়েটিকে সেখান থেকে নিয়ে মেদিনীপুরের হোমে পাঠিয়ে দেন। তারপর থেকে পিউ এর ঠিকানা  হয়েছে সেই হোম। হোম কর্তৃপক্ষ মেয়েকে কার কাছে ফেরাবে সেই নিয়ে বড় জট তৈরি হয়েছে এই মুহূর্তে। তবে মেয়ের বয়স ১৮ বছর হলে সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কার কাছে থাকবে।

ঘাটাল মহকুমার সমস্ত আপডেট তে যুক্ত হন আমাদের সাথে!