করোনা: ঘাটাল মহকুমায় জরুরি ওষুধের আকাল পড়ছে

শুভম চক্রবর্তী: করণা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সারা দেশজুড়ে প্রথমে জনতা কারফিউ এবং এরপর লকডাউন এর সিদ্ধান্ত এগিয়েছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে মহকুমা জুড়ে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকার ফলে বেশকিছু জিনিসপত্র সহজলভ্য হচ্ছে না ঠিকই কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো অস্বাভাবিক ভাবে দুর্লভ হয়ে পড়েছে ঘাটাল মহকুমার ঔষধ দোকানগুলি থেকে HCQS ওষুধটি, যার বাজারচলতি নাম Hydroxchloroquine। কিন্তু এই সময় এই ওষুধটির চাহিদা এমনই বেড়ে গেল যে শুধু দুর্মূল্য নয় দুষ্প্রাপ্যের তালিকাতেও ঢুকে গেল হঠাৎ করেই। একই অবস্থা অনলাইন ওষুধ ডেলিভারি অ্যাপস গুলোতেও। সব জায়গাতেই আউট অফ স্টক দেখাচ্ছে। কিন্তু কেন? এই বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেলআদতে এটি একটি বাতের ঔষধ, ম্যালেরিয়ার চিকিৎসাতেও প্রয়োগ হয়।কিন্তু করোনা চিকিৎসাতে বিশ্বের কয়েকটি দেশ সহ ভারতের কেরালা ও মহারাষ্ট্রের কয়েকটি চিকিৎসা কেন্দ্রে করোনা আক্রান্তের ওপর এই ওষুধের প্রয়োগের ফলে সুফল মিলছে অবাক করা।আর তাই এই ওষুধটি বর্তমানে শুধুমাত্র করোনা আক্রান্তদেরই চিকিৎসার জন্য কাজে লাগাচ্ছেন চিকিৎসকমহল।কিন্তু ঘাটাল মহকুমার যেখানে এখনও পর্যন্ত করো না সেইভাবে থাবা বসাতে পারেনি সেখানে এই ওষুধের হঠাৎ এমন চাহিদা বেড়ে যাওয়াটা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ওয়াকিবহাল মহলের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঔষধবিক্রেতা বলেন সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ওষুধটি দেখে প্রচুর মানুষ আসছেন ওষুধ কিনতে।ডাক্তারবাবুর প্রেসক্রিপশন দেখে তবেই এই ওষুধ বিক্রি করি।এমনিতেই এই ধরনের ওষুধ গুলো খুব একটা বেশি স্টকে থাকেনা না।
কিন্তু কিছু মানুষজন প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ কিনতে নাছোড়বান্দা তারাই হয়তো কোথাও থেকে ঠিক জোগাড় করে ফেলছে এই ওষুধ। এই প্রসঙ্গে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এল.কে দলবেরা বলেনIndian council of medical research এর গাইডলাইনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশেষত যারা COVID19 সংস্পর্শে থাকছেন বা যিনি এই রোগে আক্রান্ত কেবল তার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে। ইচ্ছামত এই ওষুধ খেলে তা বড় বিপদজনক হতে পারে। মানুষের হাতে যদি এই ঔষধ সংগ্রহ করে নিজের ইচ্ছামত খেয়ে ফেলেন তাহলে সেটা মোটেও ভালো খবর নয়। তাই আমি অনুরোধ করবসোশ্যাল মিডিয়া বা খবরে এই ওষুধ সম্পর্কে দেখে তা সংগ্রহ করে খাবার কোন প্রয়োজন নেই কেউ যদি আক্রান্ত হন বা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসেন তবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই চলুন।