রবিবার এলেই হেঁড়িয়ায় বুঁদহয়ে রক্তাক্ত মুরগী লড়াই দাসপুরে

ঠিক কবে শুরু হয়েছে তাঁরও মনে নেই। তবে বাবার হাত ধরেই এই মুরগীর লড়াই দেখতে আসতেন মারাং গুরুতে বিশ্বাসী বাবলু। বয়স প্রায় পঞ্চাশ তো হবেই। পেটের দায়ে নানান কাজে ব্যস্ত থাকলেও আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাবলুরা প্রতিরবিবার দাসপুরের বাজার পেরিয়ে পীর তলার ঠিক পরেই ঘাটাল-পাঁশকুড়া সড়কের ডান দিকে যে মুরগী খেলার আসর বসে সেখানে হাজির হন। মাঠের পাশে বটগাছের তলায় দুপুর থেকেই তাঁবু টাঙিয়ে সাঁওতাল মেয়েরা নিজেদের হাতে তৈরি হেঁড়িয়া পুরুষদের জাম গুলোতে ঢেলে দেন। সাথে কাসুন্দি বা ঝাল তরকারি তারাই দেন। হেঁড়িয়ার নেশায় বুঁদ চোখে নিজেদের সেই অতিত-পাশবিকতার যুগে ফিরেযান। চোখের সামনে একের পর এক মুরগী ফিনকি ধরে রক্তে ভেসেযায়। গায়ের রক্ত টগবগিয়ে ওঠে। নিজেদের সাঁওতালী ভাষায় চিৎকার করে উঠে বাহবা দেন বিজিত মুরগীকে।

এখন এ খেলা আর আদিবাসী সাঁওতালদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনেক শিক্ষিত মানুষও আসেন নিজেদের প্রশিক্ষিত মুরগীদের নিয়ে। মুরগীর বাম পায়ের পিছনদিকে একটি লিকলিকে চাকু শক্তকরে লালশালু দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। দুই মুরগীকে মাঠের মাঝে ছেড়ে দেওয়া হয়। লড়াই ততক্ষণ চলে যতক্ষণ না এক মুরগী রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। খেলায় যার মুরগী জিতে তারই প্রাপ্যহয় ওই মৃত/জখম মুরগীটি।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Soumen Misra

তথ্যভিত্তিক সত্য, কথায় ও লেখায় প্রকাশ পাক।
✆+919932953367
Em@il:- soumenmisra.in@gmail.com
  • gplus

Leave a comment